ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসেন রেজাই এই মন্তব্য করেন। এর আগে তিনটি দেশের শীর্ষ আধিকারিকরা তেহরানে ইরানের আধিকারিকদের সঙ্গে প্রথম যৌথ বৈঠকে বসেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, কোনও বড় ঘোষণা ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়েছে। তবে দেশগুলি আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে।
আঞ্চলিক নিরাপত্তার উপর জোর ইরানের:
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে রেজাই বলেন, “আমার মনে হচ্ছে, এই অঞ্চলে একটি নতুন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে… ভদ্রলোকদের মধ্যে আলোচনায় আমি অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশ অনুভব করেছি।”
তিনি জানান, দেশগুলি একমত হয়েছে যে আঞ্চলিক নিরাপত্তা বাইরের শক্তির পরিবর্তে এই অঞ্চলের দেশগুলিরই পরিচালনা করা উচিত।
রেজাই বলেন, “আমরা যে বিষয়গুলিতে একমত হয়েছি, তার মধ্যে রয়েছে আমরা যে অঞ্চলে বসবাস করি, সেখানকার নিরাপত্তা অভ্যন্তরীণভাবে নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, এই অঞ্চলের দেশগুলিকেই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “এই অঞ্চলে যে কোনও ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপ আমাদের প্রতিরোধ করতে হবে।”
রেজাই আরও জানিয়েছেন, দক্ষিণ লেবানন, দক্ষিণ সিরিয়া, গাজা এবং পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
উত্তেজনা প্রশমনের উপর জোর সৌদি আরবের:
সৌদি আরবের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমান সংকটে জড়িত পক্ষগুলির মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার লক্ষ্যেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
বৈঠকে অংশ নেওয়া প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সলমন, পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন। তাঁরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গেও বৈঠক করেন।
গত অগাস্টে মক্কায় প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পর এই প্রথম তিনটি দেশের আধিকারিকরা যৌথভাবে তেহরান সফর করলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া সংঘাত ফের শুরু হতে পারে বলে উদ্বেগ বাড়ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হল। যুদ্ধ গোটা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের দাবি করা হামলার মুখে পড়েছে সৌদি আরবও।
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ওয়াশিংটন ‘‘ফের আরও একটি ছোট আকারের এপিক ফিউরি অভিযান চালাতে পারে’’ বলে মন্তব্য করার পর নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের নাম ছিল ‘এপিক ফিউরি’।
ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সতর্ক করে বলেছেন, মঙ্গলবার নির্ধারিত ইজরায়েলের নির্বাচন বানচাল করতে ইরান এবং তার সহযোগীরা হামলার চেষ্টা করতে পারে।