Last Updated:
Haldia Port: অভূতপূর্ব স্বীকৃতি হলদিয়া বন্দরের! ভারতের পূর্ব উপকূলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া বন্দর পেল ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক তকমা। ভারতের ৪১তম বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন (Immigration) পরিষেবা।
হলদিয়া: ভারতের পূর্ব উপকূলের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র, পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়া বন্দর পেল এক ঐতিহাসিক ও মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। ভারতের ৪১তম বন্দর হিসেবে হলদিয়া বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হতে চলেছে অভিবাসন বা ইমিগ্রেশন (Immigration) পরিষেবা।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের ফলে দেশের উপকূলবর্তী সুরক্ষাবলয় যেমন আরও মজবুত হল, তেমনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অর্থনীতির আঙিনায় হলদিয়ার গুরুত্ব এক ধাক্কায় বহু গুণ বেড়ে গেল। কেন্দ্রের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত শুধু হলদিয়া বন্দরের গুরুত্বকেই বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়নি, বরং সমগ্র রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক অভূতপূর্ব জোয়ার আনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এতদিন পর্যন্ত ভারতের মোট ৪০টি উপকূলবর্তী বন্দরে এই বিশেষ ইমিগ্রেশন সুবিধা চালু ছিল। এবার সেই তালিকায় ৪১তম নাম হিসেবে যুক্ত হল হলদিয়া। দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নতুন স্বীকৃতির ফলে হলদিয়া বন্দরের কার্যকলাপে এক আমূল পরিবর্তন আসতে চলেছে। ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট চালু হওয়ার ফলে এখন থেকে বন্দরে আসা সমস্ত বিদেশি জাহাজ এবং তার কর্মীদের উপর ২৪ ঘণ্টা কড়া নজরদারি চালান সম্ভব হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এর ফলে আরও নিশ্ছিদ্র হবে।
এতদিন হলদিয়া বন্দরে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী জাহাজ এলেও, ইমিগ্রেশন সুবিধা না থাকায় বিদেশি নাবিক বা ক্রু-মেম্বাররা জাহাজের বাইরে বেরোতে পারতেন না। এবার থেকে বন্দরেই কর্তব্যরত ইমিগ্রেশন আধিকারিকরা তাঁদের পাসপোর্ট ও ভিসা যাচাই করে এ দেশে নামার আইনি অনুমতি দিতে পারবেন।
এ বিষয়ে সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, “হলদিয়া তথা সমগ্র রাজ্যবাসীর কাছে এটা একটা বিরাট পাওনা। এই সিদ্ধান্ত হলদিয়া বন্দরকে বাণিজ্যের নিরিখে আরও অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।” হলদিয়া বন্দরকে কেন্দ্র করে রাজ্যে শিল্প ও বাণিজ্যের যে সম্ভাবনা রয়েছে, এই স্বীকৃতি তাকে আরও তরান্বিত করবে। বিদেশি নাবিকরা বন্দরে নামার সুযোগ পাওয়ায় স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, হোটেল ও পর্যটন শিল্পের পরিধি বাড়বে। এর পাশাপাশি, বিশ্বমঞ্চে হলদিয়া বন্দরের গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামী দিনে আরও বেশি সংখ্যায় আন্তর্জাতিক জাহাজ এই বন্দরে নোঙর করবে, যা পরোক্ষভাবে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও রাজস্ব বাড়াতে বড় ভূমিকা নেবে।
সুরক্ষা রক্ষা এবং বাণিজ্যিক প্রসার, দুই লক্ষ্যকেই একসঙ্গে ছুঁয়ে ফেলল হলদিয়া বন্দর। ৪১তম ইমিগ্রেশন চেকপয়েন্ট হিসেবে হলদিয়ার এই আত্মপ্রকাশ কেবল পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নয়, বরং সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। একদিকে হলদিয়ায় আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন সুবিধা এবং অন্যদিকে দাদনপাত্রবাড়ের গভীর সমুদ্র বন্দর,এই দুইয়ের মেলবন্ধনে আগামী দিনে পূর্ব মেদিনীপুর তথা গোটা পশ্চিমবঙ্গের অর্থনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে যেতে চলেছে।
সৈকত শী