কলকাতা: ৩৫ বছর বয়সে ২৫ লক্ষ টাকা সঞ্চয় করা নিঃসন্দেহে একটি বড় আর্থিক সাফল্য। নিয়মিত সঞ্চয়, আয় বৃদ্ধির সঙ্গে খরচ নিয়ন্ত্রণ এবং পরিকল্পিত বিনিয়োগের মাধ্যমে এমন একটি তহবিল তৈরি করতে সময় লাগে। তবে প্রশ্ন হল, এই বয়সে ২৫ লক্ষ টাকা থাকলে কি আপনি অধিকাংশ ভারতীয়র তুলনায় এগিয়ে?
আরও পড়ুন: সেপ্টেম্বরের শেষে টানা ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, গ্রাহকদের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা জারি করল SBI
এর সরাসরি উত্তর দেওয়ার মতো নির্ভরযোগ্য জাতীয় পরিসংখ্যান নেই। ৩৫ বছর বয়সিদের গড় সঞ্চয় কত, তা জানার মতো পর্যাপ্ত দেশব্যাপী তথ্য কারও হাতে নেই। আয়, শহর বা গ্রাম, পারিবারিক দায়িত্ব, সম্পত্তি, ঋণ এবং সন্তানের শিক্ষা—সবকিছুর উপর ব্যক্তির আর্থিক অবস্থান নির্ভর করে।
৩৫ বছর বয়সে অনেকেরই বাড়ির EMI, সন্তানের খরচ, বাবা-মায়ের দায়িত্ব কিংবা শিক্ষা ও ব্যক্তিগত ঋণ থাকে। ফলে ২৫ লক্ষ টাকা সঞ্চয় থাকলে তা একটি উল্লেখযোগ্য আর্থিক নিরাপত্তা তৈরি করতে পারে। জরুরি কোনও খরচ এলে ঋণের উপর নির্ভরতা কমে এবং চাকরি পরিবর্তন বা সাময়িক আয় কমে গেলেও পরিস্থিতি সামলানো সহজ হয়।
তবে ২৫ লক্ষ টাকার গুরুত্ব নির্ভর করে আপনার উপার্জনের উপরও। কারও মাসিক উপার্জন যদি ৪০ হাজার টাকা হয়, তাহলে ৩৫ বছর বয়সে ২৫ লক্ষের তহবিল তৈরি করা অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য সঞ্চয়ের পরিচয়। আবার মাসিক আয় ৩ লক্ষ টাকা হলে একই পরিমাণ সঞ্চয় আয়ের তুলনায় অনেক ছোট অংশ হতে পারে।
তাই অন্যদের সঙ্গে তুলনার চেয়ে নিজের বার্ষিক আয়ের কতটা সম্পদে পরিণত হয়েছে, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি আয় বাড়ার সঙ্গে খরচও একই হারে বাড়ছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। বেতন বাড়লেও যদি গাড়ি, ভ্রমণ ও জীবনযাত্রার খরচ দ্রুত বেড়ে যায়, তাহলে প্রকৃত সম্পদ তৈরির গতি কমে যেতে পারে।
৩৫ বছরে ২৫ লক্ষ টাকা যদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগে থাকে, উচ্চসুদের ঋণ নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা স্পষ্ট হয়, তাহলে সেটি শক্তিশালী ভিত্তি। তবে এটিকে চূড়ান্ত লক্ষ্য না দেখে আগামী ১০ বছরে সম্পদ আরও বাড়ানোর ভিত্তি হিসেবে দেখা উচিত।