ওয়াশিংটন: আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচনে জোর ধাক্কা খেয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। কার্যকালের মেয়াদ দু’বছর বাকি থাকতেই কংগ্রেসে কোণঠাসা হয়ে পড়ল রিপাবলিকানরা। সেই জায়জায় ডেমোক্র্যাটদের আধিপত্য বেড়েছে। সেই নিয়ে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, প্রশ্ন উঠছে ধনকুবের ইলন মাস্কের সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ নিয়েও। কারণ রিপাবলিকানদের জেতাতে মিডটার্ম নির্বাচনে প্রায় ৪৭০০ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন তিনি। তাই মিডটার্মের ফলাফল শুধুমাত্র ট্রাম্প বা রিপাবলিকানদের পার নয়, মাস্কেরও পরাজয় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকর। আগামী দিনে আমেরিকায় তাঁর সাম্রাজ্য ধাক্কা খেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। (Elon Musk)

আমেরিকায় মিডটার্ম নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে চলে গিয়েছে। রিপাবলিকানদের কাছ থেকে টেক্সাস, সাউথ ক্যারোলাইনা, আইওয়া, মিশিগান এবং কানসাসের মতো সেনেট আসন ছিনিয়ে নিয়েছেন ডেমোক্র্যাটরা। হাউজ অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসেও তাদের আসন সংখ্যা ২৬০ ছাড়িয়ে গিয়েছে। এমতাবস্থায় রিপাবলিকানদের প্রচারে টাকা ঢালা মাস্কের প্রতি ডেমোক্র্যাটরা মোটেই সদয় হবেন না বলে করা হচ্ছে। বিশেষ করে টেক্সাস রিপাবলিকানদের হাত ছাড়া হওয়ায় মাস্কের সাম্রাজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন অনেকেই। (US Midterm Results)

আরও পড়ুন: প্রথম মুসলিম সেনেটর আমেরিকায়, ইতিহাস গড়লেন আব্দুল আল সায়েদ, ‘জিহাদি’, ‘উগ্রপন্থী’ কটাক্ষ শুনতে হয়েছে লাগাতার

মিডটার্মে রিপাবলিকানদের প্রচারে ৪৭৪ কোটি টাকা ঢেলেছিলেন মাস্ক, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বরাদ্দ হয় টেক্সাসের জন্য, ২২৪ মিলিয়ন ডলার প্রায়। সেপ্টেম্বর মাসেই টেক্সাসে প্রচারের জন্য ১৫৮ মিলিয়ন ডলার খরচ করেন মাস্ক। টেক্সাস মাস্কের সংস্থার Tesla-র সদর দফতর। সেখানেই SpaceX-এর ঘাঁটি। সেখানেই চিপ তৈরির সেমিকন্ডাক্টর তৈরির Terafab প্রকল্পের ঘোষণা করেন মাস্ক।

কিন্তু যে টেক্সাসে রিপালবিকানদের প্রচারে দু’হাত উপুড় করে দেন মাস্ক, সেখান গোহারা হেরেছেন দলের প্রার্থী তথা বিদায়ী গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট। ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জিনা হিনোজোসা বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন টেক্সাসে। সেখানকার প্রথম লাতিন গভর্নর হতে চলেছেন তিনি। সেনেটের লড়াইয়ে আবার ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো হারিয়েছেন রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে। ১৯৯৪ সালের পর এই প্রথম টেক্সাস সেনেট আসনে কোনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জয়ী হলেন। প্যাক্সটনের সঙ্গে গোড়া থেকেই মাস্কের সম্পর্ক আদায় কাঁচকলায়। প্যাক্সটনকে দুর্নীতিগ্রস্তদের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরেন মাস্ক। সেখানে জয়ী হওয়ার পর সরাসরি মাস্ককেই বেঁধেন প্যাক্সটন। বলেন, “টাকার ক্ষমতা যে মানুষের ক্ষমতার সামনে কিচ্ছু নয়, তা প্রমাণ করে দিল টেক্সাস।”

আরও পড়ুন: বুড়ো হাড়ে ভেল্কি…আমেরিকায় নীল ঝড়, ডেমোক্র্যাটদের জয়ে ‘X ফ্যাক্টর’ বারাক ওবামা

মিডটার্মে একের পর এক আসনের ফলাফল যখন সামনে আসছে, আগাগোড়া নিশ্চুপ ছিলেন মাস্ক। একেবারে শেষ পর্যায়ে লেখেন, ‘তাহলে আমার হস্তক্ষেপে কাজ হল না এবার’। এর আগে, Starlink স্যাটেলাইট নেটওয়র্ক ব্যবহার করে নির্বাচনে হেরফের ঘটানোর অভিযোগ ওঠে মাস্কের বিরুদ্ধে। সেদিকেই ইঙ্গিত করেন মাস্ক। কিন্তু এর পাল্টা রিপাবলিকানদের সমর্থনে তাঁর পোস্টগুলি তুলে ধরতে শুরু করেন নেটিজেনরা। সেই নিয়ে তর্কবিতর্কের মধ্যে রিপাবলিকানদের জন্য ভোট চেয়ে নিজের করা আগের পোস্ট মুছে দেন মাস্ক। 

তবে পোস্ট মুছে দিলেও মিডডাটার্মের ফলাফলের আঁচ এড়াতে পারছেন না মাস্ক। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মিডটার্মের ফলাফল সামনে আসার পর SpaceX-এর শেয়ার ৫.৫ শতাংশ পড়ে গিয়েছে। ৫.১ শতাংশ শেয়ার পড়েছে Tesla-র। 

ট্রাম্পের দ্বিতীয় দফার সরকারে ডিপার্টমেন্ট অফ এফিসিয়েন্সির দায়িত্ব পেয়েছিলেন মাস্ক। মিডটার্মের ফলাফল সামনে আসার আগেই, সেই নিয়ে তদন্তের দাবি উঠছিল ডেমোক্র্যাট শিবির থেকে। শুধু তাই নয়, একের পর এক সরকারি টেন্ডার নিয়েও তদন্তের দাবি ওঠে। ইউক্রেনে SpaceX-এর Starshield নেটওয়র্ক ব্যবহারে বিধিনিষেধ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে একাধিক। ডেমোক্র্যাট রিপ্রেজেন্টেটিভ জো লফগ্রেনের অভিযোগ, মাস্ক বহুজনের কেরিয়ার নষ্ট করেছেন। বেআইনি ভাবে গ্রান্ট বাতিল করেছেন, চাকরি থেকে তাড়িয়েছেন সরকারি আধিকারিকদের। ক্ষমতায় এলে মাস্কের বিরুদ্ধে তদন্ত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেন কানেটিকটের ডেমোক্র্যাট সেনেটর রিচার্ড ব্লুমেন্থল। 

এমতাবস্থায় অস্বস্তি আরও বাড়িয়েছেন রিপাবলিকান রিপ্রেজেন্টেটিভ রবার্ট গার্সিয়া। ডেমোক্র্যাটদের জয়ের পর রিপাবলিকান এবং তাঁদের সমর্থকদের ভাল আইনজীবী নিয়ে প্রস্তুত থাকতে বলেন তিনি। মাস্ক যদিও জানিয়েছেন, তিনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। তবে আমেরিকার রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মসনদ ছাড়ার আগে মাস্ককে রক্ষাকবচ দিয়ে যেতে পারেন ট্রাম্প। ক্ষমা করে দিতে পারেন অন্যদেরও। তবে প্রেসিডেন্টের দেওয়া রক্ষাকবচ শুধুমাত্র ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রেই কার্যকর। অঙ্গরাজ্যগুলি নিজের মতো করে তদন্ত চালিয়ে যেতে পারে। তদন্ত কমিশন বসিয়ে অপরাধের পর্দাফাঁস করতে পারে কংগ্রেসও। সেক্ষেত্রে বিপাকে পড়তে পারেন। কারণ তাঁর আমলে DOGE প্রায় ২ লক্ষ ৫০ হাজার চাকরি বাতিল করে। বাতিল করা হয় বিদেশি অনুদান।

By Admin

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

WordPress Catalog Sara – WooCommerce WordPress Market Theme Saras – Wine Template Kit Saras – Wine WordPress Theme Saratov – Day Care & Kindergarten School WordPress Theme Sasby – App Landing & Saas WordPress Theme Sasco – SaaS Technology WordPress Theme Sash – Bootstrap 5 Admin & Dashboard Template SasPik | Landing WordPress theme Sassa – Startup Multipurpose WordPress Theme SassCo – App Landing & Startup Elementor Template Kit