চার সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে এবার এফআইআর রুজু হল। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এক নামী ইউটিউবার-রাজনীতিকও। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁরা ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল (E20) নিয়ে চলতি চর্চায় কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী নিতিন গডকড়ীকে টার্গেট করে মিথ্যা ও মানহানিকর বিষয়বস্তু ছড়ানো হচ্ছে।
বিজেপির সোশ্যাল মিডিয়া সেলের শহর সভাপতি শিশির ত্রিপাঠীর দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নাগপুর সিটি সাইবার থানায় এই মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। এফআইআর-এ জনপ্রিয় ইউটিউবার-রাজনীতিক মণীশ কাশ্যপ ছাড়াও ‘দেশি বয়েজ’ (desi_boysncr) নামের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট এবং ইনফ্লুয়েন্সার হর্ষিত রাঠি ও অঙ্কলেশ ইনভাটির নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিজেপি ছেড়ে গত বছর প্রশান্ত কিশোরের ‘জন সূরয পার্টি’-তে যোগ দেওয়া কাশ্যপ ৩ জুলাই ইউটিউবে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। ওই ভিডিওতে E20 জ্বালানি নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নিতিন গডকড়ীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার উদ্দেশে ‘ভুল তথ্য’ প্রচার করা হয়েছে। ত্রিপাঠী আরও অভিযোগ করেন যে, অন্য তিনজন অভিযুক্ত ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি সংক্রান্ত ভিডিওতে কেন্দ্রীয়মন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্য ছিল, মিথ্যা তথ্য ছড়ানো, জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করা এবং মন্ত্রীর মানহানি করা।
পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ৩৫৬, ৩৫২ ও ২৯৬ নম্বর ধারা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৬৭ নম্বর ধারা প্রয়োগ করেছে। প্রসঙ্গত, কেন্দ্রীয় সরকারের E20 জ্বালানি—যা ২০ শতাংশ ইথানল ও ৮০ শতাংশ পেট্রোলের মিশ্রণ—চালুর উদ্যোগ নিয়ে জনপরিসরে ক্রমবর্ধমান বিতর্কের মধ্যেই এই এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে গাড়ির পারফর্ম্যান্সে প্রভাব পড়ছে বলে ভূরি ভূরি অভিযোগ উঠছে। কিন্তু সেই অভিযোগ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের পক্ষে গাড়ির মাইলেজ সঠিকভাবে বোঝা সম্ভব নয়। একমাত্র অথরাইজ়ড ডিলারই সঠিক হিসেব বলতে পারেন। এবিপি নিউজ-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন গড়কড়ী। এবিপি নিউজের সাংবাদিক জানান, E20 পেট্রোল ঢালার পর থেকেই তাঁর গাড়ির মাইলেজ কমে গিয়েছে। ২০২৩ সালে গাড়ি কেনার সময় প্রতি লিটারে যেখানে ১১ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া যেত, E20 ঢালার পর থেকে লিটারে ৭ কিলোমিটার মাইলেজ মিলছে। কিন্তু মাইলেজের হিসেব নিয়েই প্রশ্ন তোলেন গডকড়ী। কীভাবে গাড়ির মাইলেজ বুঝতে পারলেন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন তিনি।