বর্তমানে, প্রধানমন্ত্রী উজ্জ্বলা যোজনা (PM Ujjwala Yojana)-র একজন সুবিধাভোগী ১৪.২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের জন্য কার্যত ৬৪২ টাকা পরিশোধ করেন। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারে সেই সিলিন্ডার সরবরাহের প্রকৃত খরচ ১,৬০০ টাকারও বেশি। এমনকি সাধারণ গ্রাহকরাও ৯৪২ টাকায় সিলিন্ডার পাচ্ছেন, যা বাজার-নির্ধারিত প্রকৃত মূল্যের তুলনায় প্রায় ৭০০ টাকা কম।
প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়—
পাকিস্তান: ₹১,০৪৬
নেপাল: ₹১,২০৭
বাংলাদেশ: ₹১,২২৫
শ্রীলঙ্কা: ₹১,২৪১
আর উন্নত অর্থনীতির দেশগুলিতে—
যুক্তরাষ্ট্র: ₹১,৭৫৫
অস্ট্রেলিয়া: ₹১,৭৬৫
কানাডা: ₹২,৪১১
পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতা এবং হরমুজ প্রণালীতে (Strait of Hormuz) সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম প্রায় ৪৬ শতাংশ বেড়েছে। ভারত তার এলপিজি চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে। তবুও সরকার এই মূল্যবৃদ্ধির সম্পূর্ণ বোঝা গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়নি।
গৃহস্থালির এলপিজিতে ভর্তুকিজনিত ঘাটতি (Under-Recovery) এখন প্রায় ৬০,০০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এই বিপুল আর্থিক চাপ সরকারি তেল সংস্থাগুলি এবং সরকার বহন করছে, যাতে সাধারণ মানুষের উপর অতিরিক্ত বোঝা না পড়ে।
উজ্জ্বলা যোজনার সুবিধাভোগীরা এখনও প্রতি সিলিন্ডারে ৩০০ টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকি হিসেবে পাচ্ছেন। এর ফলে দেশের ১০.৫৮ কোটিরও বেশি পরিবার উপকৃত হচ্ছে।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারত নিরবচ্ছিন্ন এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করেছে, কোনও ঘাটতি তৈরি হতে দেয়নি ৷
তথ্য যা বলছে
উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় প্রায় ৬০% কম দামে এলপিজি পাচ্ছেন।
সাধারণ গ্রাহকরা আন্তর্জাতিক মূল্যের তুলনায় প্রায় ৪৫% কম দামে এলপিজি পাচ্ছেন।
ভারতের পরিবারগুলি প্রতিবেশী দেশগুলির তুলনায় কম দামে এবং উন্নত দেশগুলির তুলনায় অনেক কম দামে রান্নার গ্যাস ব্যবহার করছে।