যখন পোর্টফোলিওতে সোনার অংশ খুব বেশি হয়ে যায়
সোনার মূল কাজ হল বিনিয়োগ পোর্টফোলিওকে স্থিতিশীলতা প্রদান করা। সাধারণত আর্থিক পরামর্শদাতারা মোট বিনিয়োগের একটি সীমিত অংশ সোনায় রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু সোনার দামে বড় উত্থান হলে পোর্টফোলিওতে এর অংশও বেড়ে যায়।
যদি সোনার অনুপাত প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি হয়ে যায়, তাহলে এটি ইঙ্গিত দিতে পারে যে পোর্টফোলিওকে পুনরায় ভারসাম্যপূর্ণ (Rebalance) করার সময় এসেছে। কিছু সোনা বিক্রি করলে ঝুঁকি কমে এবং অন্যান্য বিনিয়োগের সুযোগও পাওয়া যায়।
বিশ্বব্যাপী উত্তেজনা, যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। অনেক সময় এই মূল্যবৃদ্ধি প্রকৃত চাহিদার তুলনায় বিনিয়োগকারীদের আবেগের কারণেই বেশি হয়।
যদি অল্প সময়ের মধ্যে সোনার দামে অস্বাভাবিক উত্থান দেখা যায়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা আংশিক লাভ তুলে নেওয়ার কথা ভাবতে পারেন। বাজারের সর্বোচ্চ দাম ধরার চেষ্টা প্রায় অসম্ভব, তাই ধাপে ধাপে লাভ বুক করাকে ভালো কৌশল বলে মনে করা হয়।
সোনায় বিনিয়োগের অন্যতম উদ্দেশ্য হল প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তা পাওয়া। যদি বাড়ি কেনা, সন্তানের পড়াশোনা, বিয়ে বা অন্য কোনও গুরুত্বপূর্ণ খরচের জন্য আপনি সোনায় বিনিয়োগ করে থাকেন এবং সেই বিনিয়োগ ভালো রিটার্ন দিয়ে থাকে, তাহলে সেটি কাজে লাগানোর এটাই উপযুক্ত সময় হতে পারে।
অনেক বিনিয়োগকারী আরও বেশি লাভের আশায় অপেক্ষা করেন, কিন্তু বাজারের পরিস্থিতি যে কোনও সময় বদলে যেতে পারে। তাই নির্দিষ্ট আর্থিক লক্ষ্য পূরণের জন্য সোনা ব্যবহার করা বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
অনেক সময় সোনা বিক্রির কারণ সোনার নিজস্ব পারফরম্যান্স নয়, বরং অন্য বিনিয়োগের সুযোগ।
উদাহরণস্বরূপ, শেয়ারবাজারে বড় পতনের পর যদি ভালো কোম্পানির শেয়ার কম দামে পাওয়া যায় বা স্থায়ী আয়ের (Fixed Income) বিনিয়োগে বেশি সুদের সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে বিনিয়োগকারীরা সোনা থেকে কিছু অর্থ সরিয়ে সেখানে বিনিয়োগ করতে পারেন।
দীর্ঘমেয়াদে সম্পদ তৈরির মূল উৎস সাধারণত ইক্যুইটি-ভিত্তিক বিনিয়োগ, আর সোনা নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে কাজ করে।
সাধারণত উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল মুদ্রা এবং বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময় সোনা ভালো পারফরম্যান্স করে। কিন্তু যখন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে, অর্থনীতি স্থিতিশীল হয় এবং সুদের হার বাড়তে থাকে, তখন সোনার উত্থান কিছুটা থেমে যেতে পারে।
এই ধরনের পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীদের উচিত তাঁদের সোনার বিনিয়োগ পুনর্বিবেচনা করা। এর অর্থ এই নয় যে পুরো বিনিয়োগ বিক্রি করে দিতে হবে, বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশলে পরিবর্তন আনা যেতে পারে।
সোনা থেকে বেরিয়ে আসার সময় শুধু দামের দিকে তাকালেই হবে না, কোন মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
গয়না বিক্রি করলে মেকিং চার্জ এবং অন্যান্য কাটতির কারণে ক্ষতি হতে পারে। গোল্ড ETF তুলনামূলকভাবে সহজে কেনাবেচা করা যায়। অন্যদিকে, Sovereign Gold Bond-এ বিনিয়োগকারীদের জন্য মেয়াদপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখা অনেক সময় বেশি লাভজনক হতে পারে, কারণ এতে কর-সুবিধাও পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, বিচক্ষণ বিনিয়োগকারীরা সোনাকে এমন সম্পদ হিসেবে দেখেন না যা সারাজীবন ধরে রাখতে হবে। বরং প্রয়োজন, বাজার পরিস্থিতি এবং আর্থিক লক্ষ্যের ভিত্তিতে সঠিক সময়ে এর ব্যবহারই দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল দিতে পারে।