একটি বিমান এক ফ্লাইট শেষ করে পরবর্তী ফ্লাইটের আগে যে নির্দিষ্ট সময় মাটিতে থাকে, সেই সময়কে ‘টার্নঅ্যারাউন্ড’ বলা হয়। এই সময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মী, ক্যাটারিং কর্মী, লাগেজ হ্যান্ডলার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণ কর্মীরা বিমানে প্রবেশ করেন।
এই সময়েই একাধিক অনুমোদিত ব্যক্তি বিমানে প্রবেশের সুযোগ পান। তবে তাঁদের কাজ নির্দিষ্ট পরিষেবা সংক্রান্ত। সাধারণ অবস্থায় কেউ বিমানের অভ্যন্তরীণ প্যানেল খুলে পরীক্ষা করেন না, বিশেষ করে শৌচাগারের স্পিকার হাউজিংয়ের মতো অংশ। শুধুমাত্র কোনও প্রযুক্তিগত সমস্যা বা নিরাপত্তা সতর্কতা দেখা দিলে ওই ধরনের অংশ খোলা হয়। তদন্তকারীদের মতে, নিয়মিত পরিষেবা এবং কাঠামোগত পরিদর্শনের মধ্যবর্তী এই ফাঁকই পাচারকারীদের সুযোগ করে দিতে পারে।
কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল শৌচাগার?
বাণিজ্যিক বিমানের শৌচাগার অংশটি তুলনামূলকভাবে জটিল। সেখানে বৈদ্যুতিক সংযোগ, পাইপলাইন এবং বিভিন্ন কাঠামোগত প্যানেল একসঙ্গে থাকে। সাধারণ পরিষ্কারের সময় এসব অংশ খোলা হয় না। কর্মীরা উপর দিয়ে মুছে দেন এবং বর্জ্য অপসারণ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পিকার বক্স এমন একটি অংশ যা দীর্ঘ সময় স্পর্শই করা হয় না, যদি না কোনও প্রযুক্তিগত ত্রুটি দেখা দেয় বা নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন হয়। ফলে সেখানে সোনা লুকিয়ে রাখা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বলে মনে করা হয়ে থাকতে পারে।
এখন কী খুঁজছে তদন্তকারীরা?
তদন্তের মূল কেন্দ্রবিন্দু এখন একটি প্রশ্ন—সোনা ঠিক কখন বিমানের ভিতরে রাখা হয়েছিল?
এর উত্তর খুঁজতে বিমানের মাটিতে অবস্থানকালের সিসিটিভি ফুটেজ, গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কর্মীদের প্রবেশের নথি, রক্ষণাবেক্ষণের রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ক্রু ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের ডিউটি তালিকা খতিয়ে দেখা হবে।
তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, কোন ‘টার্নঅ্যারাউন্ড’ পর্যায়ে সোনা রাখা হয়েছিল এবং সেই সময়ে কারা বিমানে প্রবেশের সুযোগ পেয়েছিলেন।
পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
তদন্তকারীদের ধারণা, সোনা উদ্ধার না হলে ভবিষ্যতের কোনও এক সময়ে অন্য কোনও বিমানবন্দর বা রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রে তা বের করে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকতে পারে। প্রতিদিন একাধিক শহরে যাতায়াত করা বিমানটি অজান্তেই এই সোনা বহন করে চলত, যতক্ষণ না নির্দিষ্ট কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী তা উদ্ধার করত।
আরেকটি সম্ভাবনা হল, কোনও নির্ধারিত রক্ষণাবেক্ষণ কেন্দ্রেই পরে সোনা সংগ্রহ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে উভয় ক্ষেত্রেই একটি বিষয় স্পষ্ট—বিমানের মাটিতে অবস্থানের সময় অভ্যন্তরে প্রবেশাধিকার থাকা ব্যক্তিদের ভূমিকাই এখন তদন্তের মূল ফোকাস।