মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল থেকে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে সমর্থন জানিয়েছেন কমপক্ষে ৬৫ জন বিধায়ক৷ গতকাল রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়ও বৈঠক করেছেন ঋতব্রতের সঙ্গে৷ অন্যদিকে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে নতুন দল এনসিপিআই-তে যোগ দিয়েছেন বিদ্রোহী সাংসদেরা৷ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রত্যেকেই তৃণমূলের নাম, দলীয় প্রতীক এবং সম্পত্তি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথা জানিয়েছেন৷ এমন পরিস্থিতিতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে কালীঘাট তৃণমূলের তরফে৷ চিঠিতে সই দেখা গিয়েছে, বর্তমানে ‘নিখোঁজ’ নেতা অরূপ বিশ্বাসের৷
তৃণমূলের সম্পত্তি কার? এবার তা নিয়েও শুরু হয়েছে বিতর্ক৷ সেই বিতর্কে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত যাতে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে কোনও ভাবে টাকা তোলা না যায় তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে৷
চিঠিতে অরূপ বিশ্বাস লিখেছেন, ‘বর্তমানে প্রতিদ্বন্দ্বী বিভিন্ন গোষ্ঠী নিজেদের AITC-এর বৈধ প্রতিনিধি ও পদাধিকারী বলে দাবি করছে, যার ফলে AITC-এর নামে রক্ষিত ব্যাঙ্কের হিসাব পরিচালনার অধিকার কার রয়েছে তা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে’। তিনি লেখেন, ‘সংগঠনের অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও অননুমোদিত উত্তোলন, স্থানান্তর, দায়বদ্ধতা সৃষ্টি বা অন্য কোনো লেনদেন প্রতিরোধের স্বার্থে, আমি আপনার নিকট অনুরোধ করছি যে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত অথবা উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের নির্দেশ না আসা পর্যন্ত, সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলিতে বর্তমান অবস্থা (status quo) বজায় রাখা হোক এবং কোনো ডেবিট লেনদেন বা পরিচালনাগত পরিবর্তন অনুমোদন না করা হোক’।
তারপরেই চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘AITC-এর কোষাধ্যক্ষ হিসেবে আমি পূর্বে হিসাব ও আর্থিক বিষয়ক অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের হয়রানির সম্মুখীন হয়েছি। সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে আমি পরিচালনাগত ও প্রশাসনিক প্রয়োজনে চেকে স্বাক্ষর করতাম, যা পরে জরুরি আর্থিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য পার্টি অফিসে সংরক্ষিত থাকত’।
তিনি লেখেন, ‘এটিও সর্বজনবিদিত যে দলের বহু নির্বাচিত প্রতিনিধি—যার মধ্যে ২৮ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন এবং ৬০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন—হয় দল ত্যাগ করেছেন, নয়তো প্রকাশ্যে বর্তমান নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এর ফলে দলের কর্তৃত্ব, নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা এবং সম্পদ নিয়ে গুরুতর বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে’।
‘উপরোক্ত পরিস্থিতিতে যুক্তিসঙ্গত আশঙ্কা রয়েছে যে দলের অর্থ এমন ব্যক্তিদের দ্বারা ব্যবহার বা আত্মসাৎ হতে পারে, যাঁদের এ বিষয়ে বৈধ কর্তৃত্ব নেই। তাই দলের অর্থ কেবলমাত্র বৈধ ও অনুমোদিত নেতৃত্বের নিয়ন্ত্রণে থাকা উচিত এবং তারা-ই দলের নাম, প্রতীক, সম্পদ ও বিষয়াবলির ওপর আইনগতভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দলের অর্থ সুরক্ষিত রাখতে এবং কোনো বিতর্কিত বা অননুমোদিত লেনদেন প্রতিরোধ করতে অবিলম্বে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ প্রয়োজন’।
তাঁর মতে, ‘এছাড়াও, বর্তমান বিরোধের কারণে আমার দৃঢ় ও সৎ বিশ্বাস যে পূর্বে স্বাক্ষরিত চেকসমূহ, যদি বর্তমানে এমন ব্যক্তিদের হেফাজতে থাকে যাদের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ রয়েছে, তবে সেগুলি যথাযথ অনুমতি ছাড়াই অপব্যবহার বা নগদায়নের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে। ফলে উক্ত হিসাবের মাধ্যমে অননুমোদিত লেনদেন সংঘটিত হওয়ার বাস্তব ও তাৎক্ষণিক ঝুঁকি রয়েছে’।
সবশেষে, চিঠিতে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে আবেদন জানানো হয়েছে, ‘অতএব, আমি বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যে উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত উক্ত হিসাব থেকে কোনও লেনদেন অনুমোদন করা হবে না। এই অনুরোধ কেবলমাত্র সংগঠনের অর্থ সুরক্ষিত রাখা এবং কোনও অননুমোদিত বা বিতর্কিত লেনদেন প্রতিরোধের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে’।