Last Updated:
Bangladesh: দুই শিশুকে নিয়ে সীমান্তে পাঁচ দিন, নো-ম্যানস ল্যান্ড থেকে অবশেষে বাংলাদেশে ফিরতে পারল পরিবার।
কলকাতা: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে প্রায় পাঁচ দিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটানোর পর অবশেষে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর পুশব্যাক অভিযানে সীমান্তের ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডে’ আটকে পড়া একটি পরিবারকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে দেশে ফিরিয়ে নিয়েছে।
জানা গিয়েছে, ওই পরিবারের সদস্য ছিলেন এক দম্পতি এবং তাঁদের দুই শিশু সন্তান। শিশু দু’টির বয়স যথাক্রমে ছয় মাস এবং দুই বছর। সীমান্তের জিরো লাইনে টানা কয়েক দিন অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতে থাকার কারণে বিষয়টি বাংলাদেশের স্থানীয় বাসিন্দা, মানবাধিকার কর্মী এবং প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিশেষ করে দুই শিশুর উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে।
পরবর্তীতে বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যে একাধিক দফায় আলোচনা এবং পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলার পর বৃহস্পতিবার বিজিবি ওই পরিবারকে বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে মেনে নেয়। এরপর তাদের বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তবে একই সঙ্গে পুশব্যাক হওয়া আরও দুই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত। তাঁদের জাতীয়তা এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ না হওয়ায় বিজিবি এখনও তাঁদের গ্রহণ করেনি। ফলে তাঁরা এখনও সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ড এলাকাতেই অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধভাবে বসবাস এবং নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নজরদারি জোরদার হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে বিদেশি নাগরিকদের পরিচয় যাচাই, বৈধ নথিপত্র পরীক্ষা এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনও ব্যক্তির নাগরিকত্ব নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রীয় ও সীমান্তরক্ষী সংস্থাগুলি যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চালায়। তবে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাউকে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় ও নাগরিকত্বের নিশ্চিত প্রমাণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়।
এই ঘটনাও সেই জটিল প্রক্রিয়ারই একটি উদাহরণ। একদিকে যেখানে একটি পরিবারের নাগরিকত্ব নিশ্চিত হওয়ায় তাদের অনিশ্চয়তার অবসান ঘটেছে, অন্যদিকে, এখনও নো-ম্যানস ল্যান্ডে আটকে থাকা দুই ব্যক্তির ভাগ্য নির্ভর করছে চলমান যাচাই প্রক্রিয়ার ফলাফলের উপর। সীমান্ত পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে উভয় দেশের প্রশাসন।
Kolkata,West Bengal
