Last Updated:
Inspirational Love Story: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে মনের মিলনে বাধা হতে পারে না, তা আরও একবার প্রমাণ করলেন নদিয়ার কৌশিক মিত্র ও স্নেহা পোদ্দার। ফেসবুকের আলাপ আর ফুটবলের মাঠের আলাপন অবশেষে রূপ নিল দাম্পত্যের।
কৃষ্ণগঞ্জ, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: ফেসবুকে পরিচয়, তারপর বন্ধুত্ব, প্রেম এবং শেষ পর্যন্ত বিবাহ। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে গড়ে ওঠা এক ভালবাসার সম্পর্ক পূর্ণতা পেল নদিয়ার দুই বিশেষভাবে সক্ষম যুগলের জীবনে। এই ব্যতিক্রমী প্রেম ও বিবাহের সাক্ষী থাকল নদিয়ার মাজদিয়ার পূর্ণগঞ্জ এলাকা।
পাত্র কৌশিক মিত্র মাজদিয়ার পূর্ণগঞ্জের বাসিন্দা। জন্মগতভাবে বিশেষভাবে সক্ষম হলেও জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে নিজের যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। মাজদিয়া কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পাশাপাশি আইটিআই-তে ফিটার ট্রেডে ডিপ্লোমাও করেছেন। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ ফুটবলার। বিভিন্ন সময়ে খেলার সূত্রে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয় বগুলার বাসিন্দা স্নেহা পোদ্দারের। স্নেহাও বিশেষভাবে সক্ষম এবং বর্তমানে স্নাতক স্তরে পড়াশোনা করছেন।
কৌশিকের পরিবারে রয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী বাবা, গৃহবধূ মা এবং রেলে কর্মরত বড় ভাই। অন্যদিকে স্নেহার বাবা একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী এবং মা গৃহবধূ। দুই পরিবারই নবদম্পতির নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন। তবে বিয়ের আনন্দের মাঝেও একটি বড় চিন্তা রয়ে গেছে। শিক্ষিত ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও কৌশিক এখনও বেকার। চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করেও এখনও স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাননি। কৌশিকের বাবা আক্ষেপের সুরে বলেন, “আমরা আজ আছি বলেই ছেলে-মেয়ের কোনওভাবে দিন চলছে। কিন্তু ভবিষ্যতে আমরা না থাকলে ওদের কী হবে, সেই চিন্তাই সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়।” স্থানীয় বাসিন্দারাও নবদম্পতিকে আশীর্বাদ জানিয়ে তাঁদের সুখী ও স্বনির্ভর জীবনের কামনা করেছেন। ভালবাসার এই জয় গাথা আজ অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।
Nadia,West Bengal