Last Updated:
Indira Gandhi-Narendra Modi:ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধে কেন ব্যর্থ হয়েছিল আরবপন্থী ইন্দিরা গান্ধীর নীতি? প্রায় ৫৩ বছর পেরিয়ে ইরান-ইজরায়েল সঙ্কটের পরিস্থিতি, ফের তেল সমস্যার মুখে দাঁড়িয়েও কীভাবে সফল মোদির ইন্ডিয়া ফার্স্ট নীতি? রইল তুলনা৷
নয়াদিল্লি: ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ৷ সেই যুদ্ধে আমেরিকার যোগদান৷ ফলস্বরূপ, পশ্চিম এশিয়ায় অশান্তির পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে তেলসঙ্কট৷ ২০২৬-এর এই পরিস্থিতি মোটামুটিভাবে সকলের চেনা৷ তবে ঠিক একইরকম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল প্রায় অর্ধশতক আগে৷ সালটা ১৯৭৩৷ ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধ৷ সে সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইন্দিরা গান্ধি৷ দেশে তীব্র হয়েছিল তেলসঙ্কট৷
’২৬-এ অবশ্য নরেন্দ্র মোদির জমানায় তেমন অচলাবস্থার মুখোমুখি হতে হয়নি ভারতকে৷ কিন্তু দেশের দুই অন্যতম শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা এবং কাকতালীয় ভাবে মিলে যাওয়া পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে দুই প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত গ্রহণের পার্থক্য৷ কোন পথে চালিত হয়েছিলেন ইন্দিরা? অন্যপথ কেন বেছে নিয়েছেন মোদি? আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে আদর্শগত অবস্থানের চেয়ে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, ১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধ এবং ২০২৬ সালের ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপট টেনে এমনই দাবি উঠছে রাজনৈতিক মহলে৷
তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৩ সালের ইয়ম কিপ্পুর যুদ্ধের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী প্রকাশ্যে আরব দেশগুলির পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এবং ইজরায়েলকে সংঘাতের জন্য দায়ী করেছিলেন। যুদ্ধ-পরবর্তী সময়েও ভারত ফিলিস্তিনি আন্দোলনের পক্ষে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। কিন্তু এত কূটনৈতিক সমর্থনের পরও ওপেক দেশগুলি ভারতের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা দেয়নি। বরং আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রায় ৩০০ শতাংশ বেড়ে যায়, যার ফলে ভারতের আমদানি ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির জেরে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যায়। পেট্রোল, পরিবহণ, বিদ্যুৎ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ তৈরি হয়।
অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ইজরায়েল-ইরান সংঘাত এবং হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে উত্তেজনার সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ‘ইন্ডিয়া ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণ করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। ভারত কোনও পক্ষ না নিয়ে শান্তি, সংলাপ ও স্থিতিশীলতার পক্ষে অবস্থান বজায় রাখে, পাশাপাশি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর জোর দেয়।
সরকার তেল আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা, কৌশলগত মজুত বৃদ্ধি এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত বাড়ানোর চুক্তিও করা হয়।
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ১৯৭৩ সালের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছিল যে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে আবেগ বা আদর্শগত আনুগত্যের চেয়ে কৌশলগত স্বার্থই বেশি কার্যকর। সেই কারণেই বর্তমান সরকারের ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক অবস্থানকে ‘জাতীয় স্বার্থকেন্দ্রিক’ নীতি হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত, ভিন্ন সময়ের দুই আন্তর্জাতিক সংকটের সরাসরি তুলনা করা কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতেই পারে। তবুও জ্বালানি নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষার প্রশ্নে ১৯৭৩ ও ২০২৬ সালের ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।
Kolkata,West Bengal
