পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, সিয়ার পরিবারের সদস্যরা তাঁর সঙ্গে চেতনের সম্পর্কের বিষয়টি জানতেন, তবে সেই সম্পর্ককে তাঁরা সমর্থন করতেন না। এই তথ্য মামলাটিকে আরও নতুন মাত্রা দিয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই ঘটনায় কয়েক সপ্তাহ ধরে পরিকল্পনা, একাধিক ব্যর্থ খুনের চেষ্টা এবং শেষ পর্যন্ত লোহাগড় দুর্গ থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল।
কেতনের সঙ্গে গত ফেব্রুয়ারিতে বাগদানপর্ব সেরে ফেলেছিলেন সিয়া। তারপর থেকে কেতনের বাড়িতে যাতায়াত ছিল তাঁর। কেতনের মা জানিয়েছেন, সিয়াকে নিজের মেয়ের মতো দেখতেন। বিয়ের কথা পাকা হয়ে যাওয়ার পর সিয়াকে নিয়ে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। এ ছাড়াও তাঁর সঙ্গে বেশ কয়েক বার রেস্তরাঁয় নৈশভোজে গিয়েছিলেন পরিবারের সদস্যেরা। কিন্তু সেই মেয়েই যে এ কাজ করবে ভাবতে পারছেন না।
তদন্তে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে সিয়ার বাগদান চূড়ান্ত হওয়ার আগেই সিয়া ও চেতন সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন। তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলির দাবি, সিয়ার পরিবার এই সম্পর্কের কথা জানত, কিন্তু তারা এতে আপত্তি করেছিলেন। অভিযোগ, চেতনকে তাঁরা সিয়ার জন্য উপযুক্ত পাত্র বলে মনে করেননি।
এখন তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, পরিবারের এই আপত্তি সিয়ার সিদ্ধান্তে কোনও ভূমিকা রেখেছিল কি না। অর্থাৎ, একদিকে চেতনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে অন্যদিকে কেতন আগরওয়ালের সঙ্গে বাগদান এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পিছনে পারিবারিক চাপ বা বিরোধ কতটা প্রভাব ফেলেছিল, তা তদন্তের বিষয় হয়ে উঠেছে।
তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ সিয়ার পরিবারের কোনও সদস্যের বিরুদ্ধে এই হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ আনেনি।
এদিকে, কেতনের পরিবারের সদস্যরা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন যে, কেতন সম্প্রতি সিয়া গোয়ালের অন্য এক ব্যক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছিলেন। পাশাপাশি, সিয়ার ব্যক্তিগত কিছু বিষয় ও অতীতের কিছু বিষয় নিয়েও তাঁর মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল।
কেতনের বাবার বক্তব্য:
ঘটনায় আরও একটি নতুন দিক যোগ করেছেন কেতনের বাবা অনিল আগরওয়াল। তিনি সেই ধারণার বিরোধিতা করেছেন যে, বিয়েটি শুধুমাত্র তাঁদের পরিবারের পক্ষ থেকেই চাপ দিয়ে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
অনিল আগরওয়াল জানান, শুরুতে তাঁর পরিবার এই বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। কারণ তখন কেতন বিয়ের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না এবং তাঁদের মনে হয়েছিল সিয়ার বয়সও তুলনামূলকভাবে কম।
তাঁর দাবি, পরে সিয়ার পরিবারই বারবার তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানায়।
অনিল আগরওয়াল বলেন, “আমরা প্রথমে এই বিয়ের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু ওর (সিয়ার) পরিবার বারবার আমাদের অনুরোধ করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমরা রাজি হই।”