Last Updated:
Rath Yatra 2026: শান্তিপুরের দু’নম্বর কলোনি বারোয়ারি সংলগ্ন এলাকায় পুরির জগন্নাথ ধামের রথের আদলে তৈরি হচ্ছে কাঠের রথ। আজ থেকে ১৫ বছর আগে কয়েকজন কিশোরের হাত ধরে শুরু হওয়া এই রথযাত্রা এবার ১৫ তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। সম্পূর্ণ সাবেকি নিয়মে পুরি থেকে আনা পবিত্র কাঠের টুকরো যুক্ত করে শাল ও নিম কাঠ দিয়ে শান্তিপুরের চারজন শিল্পী এই রথ তৈরি করেছেন।
শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: পুরি জগন্নাথ ধামের রথের মহিমা বিশ্বখ্যাত। কিন্তু সেই পুরির রথের হুবহু প্রতিরূপ যদি ঘরের কাছেই দেখা যায়? হ্যাঁ, এমনই এক অসাধ্য সাধন করে দেখিয়েছেন শান্তিপুর পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের দু’নম্বর কলোনি বারোয়ারি সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। এ বছর তাঁদের এই রথযাত্রা উৎসব পা দিল ১৫ তম বর্ষে। আকৃতিতে মূল রথের চেয়ে কিছুটা ছোট হলেও, নিখুঁত কারুকার্য এবং নির্মাণশৈলীতে এটি যেন এক টুকরো পুরী!
কিশোরদের স্বপ্ন আজ যুবকদের ঐতিহ্য। আজ থেকে ১৫ বছর আগে এলাকার কয়েকজন কিশোর মিলে অত্যন্ত ছোট আকারে এই রথযাত্রার সূচনা করেছিল। সময়ের সঙ্গে সেই কিশোররা আজ যুবকে পরিণত হয়েছেন। আর তাঁদের সেই ছোট্ট উদ্যোগ আজ রূপ নিয়েছে শান্তিপুরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণে। এই বছর ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে চার দিনব্যাপী এক জাঁকজমকপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করা হয়েছে উদ্যোক্তাদের তরফে। এই রথ নির্মাণের নেপথ্যে রয়েছে বিশেষ কাহিনী।
পুরি ধাম থেকে আশীর্বাদ স্বরূপ নিয়ে আসা কিছু কাঠের টুকরোকে যুক্ত করে, চলতি বছরের অক্ষয় তৃতীয়া থেকে শুরু হয়েছিল এই রথ নির্মাণের কাজ। শান্তিপুরেরই চারজন সুদক্ষ শিল্পী দিনরাত এক করে শাল এবং নিম কাঠ দিয়ে গড়ে তুলেছেন এই অসাধারণ শিল্পকর্ম। উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন, সম্পূর্ণ সাবেকি নিয়ম মেনে বিগত বছরের রথের কিছু কাঠ যেমন এই রথ নির্মাণে পুনর্ব্যবহার করা হয়েছে, তেমনই অবশিষ্ট কাঠ দিয়ে জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রার দিন মহাপ্রভুর ভোগ রান্না সম্পন্ন হবে।
শুধু রথই নয়, এখানকার জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার প্রতিমাও সম্পূর্ণ কাঠের তৈরি। তাতে ফুটে উঠেছে শিল্পীদের অসাধারণ কাজ। রথযাত্রা উৎসব শুরু হতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তবে রথ পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার আগেই শান্তিপুরের এই প্রথম “পুরির অনুকরণে তৈরি রথ” দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ভিড় জমাচ্ছেন সাধারণ মানুষ ও পুণ্যার্থীরা। উদ্যোক্তাদের এই প্রয়াস এবং শান্তিপুরের শিল্পীদের হাতের জাদু দেখতে এবার রথযাত্রায় দু’নম্বর কলোনি বারোয়ারি প্রাঙ্গণে রেকর্ড ভিড় হবে বলেই আশা করা যাচ্ছে।
Nadia,West Bengal