Last Updated:
Mathurapur Tripura Sundari Mandir: মথুরাপুরের কৃষ্ণচন্দ্রপুরে শুরু হয়েছে প্রাচীন ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’ মন্দিরের আষাঢ়ী পূর্ণিমার পুজো। লোককাহিনি ও ত্রিপুরার প্রাচীন গ্রন্থ ‘রাজমালা’ অনুযায়ী, এই মন্দিরের সঙ্গে ত্রিপুরার ‘ত্রিপুরেশ্বরী’ মন্দিরের গভীর যোগ রয়েছে। একসময় জল-জঙ্গলে ঘেরা এই শক্তিপীঠে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুও এসেছিলেন বলে জানা যায়।
মথুরাপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নবাব মল্লিক: মথুরাপুর তথা সুন্দরবনের সঙ্গে রয়েছে ‘ত্রিপুরা যোগ’। এই মথুরাপুরেই রয়েছে প্রাচীন ‘ত্রিপুরা সুন্দরী’ মন্দির। এই মন্দিরে বাৎসরিক মহামেলা শুরু হয়েছে। দূর দূরান্ত থেকে ভক্তরা এখানে আসেন। জানা গিয়েছে, আজও সুন্দরবনের ‘ত্রিপুরাসুন্দরী’ এবং ত্রিপুরার ‘ত্রিপুরেশ্বরীর’ নাম একই সঙ্গে উচ্চারিত হয়। আগে ত্রিপুরার রীতি মেনে দেবীর পুজো হলেও পরবর্তী কালে ব্রাহ্মণ্য মতেই পুজো শুরু হয় এখানে। সাপ্তাহিক পুজো হলেও আষাঢ়ের পূর্ণিমা তিথির পুজো এখানে ধুমধাম করে পালিত হয়। একটা সময় এখানে জল জঙ্গলে ভর্তি ছিল। তার মাঝেই এখানে চলত পুজো। পরে ব্রিটিশ আমলে জঙ্গল হাসিলের সময় আটচালার মন্দির তৈরি হয়।
ব্রিটিশ আমলে তৈরি হওয়া সেই মন্দির ভেঙে পড়ার পর নতুন মন্দিরটি তৈরি হয় কয়েক বছর আগেই। তবে এবছর থেকে মন্দির একেবারে ঝাঁ চকচকে হয়ে উঠেছে। সমস্ত পরিষেবা মিলবে সেখানে। ধর্মীয় রীতি বাদ দিলেও এই মন্দিরের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। ‘কুব্জিকা তন্ত্র’ অনুয়ায়ী ত্রিপুরা সুন্দরীর এই মন্দির শক্তিপীঠের একটি। চৈতন্য মহাপ্রভু নীলাচলে যাওয়ার পথে ভক্তদের নিয়ে কয়েকদিনের জন্য এখানে এসেছিলেন। ত্রিপুরা রাজ্যের সর্বপ্রাচীন গ্রন্থ ‘রাজমালা’তে উল্লেখ রয়েছে এই মন্দিরের কথা। সেখানে রয়েছে রাজা যযাতির পুত্র দ্রূহ্যু পালিয়ে এসে কপিলমুনির আশ্রমে আশ্রয় নিয়ে ছিলেন। পরবর্তী কালে তাঁরই বংশধর প্রতদ্রন আবার কিরাত (অধুনা ত্রিপুরা রাজ্য) জয় করেন।
পরে তাঁর বংশধর কলিন্দ আদিগঙ্গা এবং ছত্রভোগ নদীর মাঝামাঝি এলাকায় ত্রিপুরাসুন্দরীর কাঠের বিগ্রহ-সহ মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন। কলিন্দের বেশ কয়েক প্রজন্ম পর বংশধররা কিরাত অর্থাৎ ত্রিপুরায় চলে যান পাকাপাকিভাবে। পিতৃপুরুষের আরাধ্য দেবীকে ত্রিপুরেশ্বরী নামে ত্রিপুরাতে প্রতিষ্ঠা করেন। ত্রিপুরা সুন্দরীর অনেক পরে ত্রিপুরেশ্বরীর পুজো শুরু হলেও এই দুই বিগ্রহকে একই দেবী বলে ধরা হয়। আর সেখান থেকে জুড়ে যায় ত্রিপুরার সঙ্গে সুন্দরবনের মথুরাপুরের এক গ্রাম কৃষ্ণচন্দ্রপুরের নাম। আজও জায়গাটি সারাবছর নির্জন স্থান হিসেবে পরিচিত।
এই আখ্যান পাশে রাখলে প্রত্নতাত্ত্বিক দিক থেকে এই মন্দিরের প্রাচীনত্ব পরীক্ষিত। ত্রিপুরা সুন্দরী মন্দির চত্বরের মাটির নীচ থেকে বহু মূর্তি ও প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার হয়। যেগুলি পাল ও সেন যুগের নিদর্শন বলেই জানিয়েছেন গবেষকরা। এ বিষয়ে সুন্দরবনের প্রত্নতত্ত্ব ও ইতিহাসের গবেষক দেবীশংকর মিদ্যা জানান, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশুতোষ মিউজিয়ামের পক্ষ থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে বহু মূর্তি এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলি রাজ্যের একাধিক মিউজিয়ামে রাখা রয়েছে। বর্তমান ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরের মাটির নীচে রয়েছে পাল ও সেন যুগের প্রাচীন সেই মন্দিরটি।” এই মন্দির নবরূপে সকলের জন্য খুলে যাওয়ায় খুশি সকলেই।
South Twenty Four Parganas,West Bengal