তদন্তকারীরা কেতনের বাগদত্তা এবং এই মামলার প্রধান অভিযুক্ত সিয়া গয়ালের পলিগ্রাফ (লাই ডিটেক্টর) পরীক্ষার জন্য জোর দিচ্ছেন। তবে এর কারণ এই নয় যে পরীক্ষার ফল আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে; বরং তাঁদের বিশ্বাস, এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন গুরুত্বপূর্ণ সূত্র মিলতে পারে, যা পরে ডিজিটাল বা ফরেনসিক প্রমাণের সাহায্যে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হবে।
এই সতর্কতার পিছনে রয়েছে সাম্প্রতিক সোনম রঘুবংশী মামলা। ওই মামলায় গ্রেফতারি প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটির কারণে শেষ পর্যন্ত সোনম জামিন পান এবং পরে উচ্চ আদালতও সেই জামিন বহাল রাখে। পুলিশ সূত্রের দাবি, সিয়ার বিরুদ্ধে মামলায় যাতে কোনও প্রযুক্তিগত বা প্রক্রিয়াগত ভুল প্রসিকিউশনের অবস্থানকে দুর্বল না করে, সে বিষয়ে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
কেন পলিগ্রাফ পরীক্ষা করাতে চায় পুলিশ?
ভারতীয় আইন অনুযায়ী, পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফলাফল আদালতে প্রত্যক্ষ বা মূল প্রমাণ (Substantive Evidence) হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। তবে তদন্তকারীদের মতে, এই পরীক্ষা তদন্তের একটি কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে নতুন সূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।
মহারাষ্ট্র পুলিশের শীর্ষ সূত্রগুলির মতে, জিজ্ঞাসাবাদের সময় সিয়ার কাছ থেকে এমন কিছু অজানা তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে, যা তদন্তে নতুন দিশা দেখাবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি সিয়া অসাবধানতাবশত জানিয়ে ফেলেন যে তিনি লোহাগড় দুর্গের খাদটির উচ্চতা সম্পর্কে আগে খোঁজ করেছিলেন, অথবা এমন কোনও ডিজিটাল কার্যকলাপের উল্লেখ করেন যা তদন্তকারীদের আগে জানা ছিল না, তাহলে পুলিশ পরবর্তীতে সেই ডিজিটাল প্রমাণ স্বাধীনভাবে উদ্ধার ও যাচাই করতে পারবে।
পলিগ্রাফ পরীক্ষার সময় পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যদি তদন্তকারীরা ব্রাউজারের সার্চ হিস্ট্রি, লোকেশন ডেটা বা মুছে ফেলা সার্চের মতো ডিজিটাল প্রমাণ আইনসম্মত প্রক্রিয়ায় স্বাধীনভাবে উদ্ধার করতে পারেন, তাহলে সেই প্রমাণ আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে, যদিও পলিগ্রাফ পরীক্ষায় দেওয়া উত্তরগুলি নিজে থেকে আদালতে প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন শীর্ষ পুলিশ আধিকারিক বলেন, “আমাদের লক্ষ্য পলিগ্রাফ পরীক্ষার রিপোর্টকে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা নয়। বরং এই পরীক্ষার মাধ্যমে এমন গোপন তথ্য বা সূত্র খুঁজে বের করা, যা পরে আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য ডিজিটাল ও ফরেনসিক প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই ও সমর্থন করা সম্ভব হবে।”
প্রত্যক্ষ প্রমাণহীন, পরিস্থিতিগত প্রমাণের ওপর নির্ভর করছে তদন্ত:
তদন্তকারীরা স্বীকার করেছেন, এই মামলায় প্রমাণ সংগ্রহের ক্ষেত্রে তাঁদের বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে। এমন কোনও প্রত্যক্ষদর্শী নেই, যিনি কেতনকে খাদে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়ার ঘটনাটি দেখেছেন। এছাড়া, অভিযোগিত ঘটনার কোনও সিসিটিভি ফুটেজও পুলিশের হাতে নেই।