দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস শুক্রবার তিনটি সূত্রের উল্লেখ করে জানিয়েছে, প্রেস সচিবের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জাকারিয়াকে। অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে হোয়াইট হাউসের এক আধিকারিকও সংবাদ সংস্থা এএফপিকে তাঁর পদ ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, জাকারিয়াকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার পরামর্শ দেওয়ার কথা ট্রাম্প জানানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর বিদায়ের খবর সামনে আসে।
‘পদ গ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বলেছিলাম’, জানালেন ট্রাম্প
শুক্রবার হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, জাকারিয়ার সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই কথোপকথনে তিনি জাকারিয়াকে প্রশ্ন করেছিলেন, আদৌ এই চাকরির প্রয়োজন তাঁর রয়েছে কি না।
৪১ বছর বয়সি জাকারিয়াকে ঘিরে বিতর্ক ক্রমশ বাড়ছিল। এক সপ্তাহও হয়নি, তিনি ক্যারোলিন লেভিটের পরিবর্তে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
মঙ্গলবার প্রেস সচিব হিসেবে জাকারিয়ার প্রথম আনুষ্ঠানিক সাংবাদিক বৈঠক হয়। বৈঠকটি ১৫ মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী হয়েছিল। সেখানে ট্রাম্পের বিভিন্ন সাফল্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। তবে সাংবাদিকদের মাত্র তিনটি প্রশ্নের উত্তর দেন।
এর পরেই আইনজীবী হিসেবে তাঁর যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। টেলিভিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এবং সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে নিজেকে আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন জাকারিয়া। ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রক্ষণশীল অলাভজনক সংস্থার জেনারেল কাউন্সেল হিসেবেও নিজের পরিচয় দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু বৃহস্পতিবার জাকারিয়া স্বীকার করেন, আইনজীবী হিসেবে কাজ করার জন্য আমেরিকায় যে বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক, সেই পরীক্ষায় তিনি পাশ করতে পারেননি।
চিনের শৌচাগারের ব্যবস্থা নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করেও সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন জাকারিয়া। দক্ষিণপন্থী ইনফ্লুয়েন্সার জ্যাক পসোবিয়েচের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে চিনে থাকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, সেখানে ‘উপযুক্ত শৌচাগার’ নেই।
সাক্ষাৎকারে জাকারিয়া বলেন, “চিন থেকে সদ্য ফিরে এসে বিষয়টি আমার স্পষ্ট মনে আছে। আমি ভেবেছিলাম, চিন কীভাবে পরবর্তী বড় শক্তি হতে চলেছে? ওদের তো উপযুক্ত শৌচাগারও নেই!”
তাঁর এই মন্তব্যের পর প্রতিক্রিয়া জানায় চিন। সে দেশের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং পরোক্ষে জাকারিয়াকে আরও বেশি করে চিনে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
নিজের নিয়োগ নিয়েও এর আগে মুখ খুলেছিলেন জাকারিয়া। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁকে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, হোয়াইট হাউসের আইনি উপদেষ্টা হিসেবে নয়।
তবে প্রথম সাংবাদিক বৈঠক, আইনজীবী হিসেবে যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন এবং চিন সম্পর্কে মন্তব্যকে ঘিরে একের পর এক বিতর্কের মধ্যেই শেষ পর্যন্ত প্রেস সচিবের পদ থেকে সরতে হল তাঁকে।