Last Updated:
Mahua Moitra attacked by Eggs: গত মঙ্গলবার তবে ডিম ছোড়া নিয়ে জনস্বার্থ মামলায় রাজ্যের ডিজিপিকে গাইডলাইন তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিভিশন বেঞ্চ৷ আদালত জানিয়েছে, ডিম ছোড়া / অভিযুক্তদের হাতে হান্ডকাপ পরানো, দড়ি পরানো রোধে রাজ্যকে গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। রাজ্যের ডিজিপি-কে গাইডলাইন তৈরি করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তারপর সেই গাইডলাইন সব থানায় পৌঁছে দিতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হলফানামা দিয়ে রাজ্যকে বিস্তারিত জানাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য জুড়ে কতগুলি এমন ঘটনা ঘটেচে, এবং কোন ঘটনায় কী কী পদক্ষেপ তাও জানতে চেয়েছে আদালত।
কালিগঞ্জ, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: বিল্ডিংয়ের নীচটায় ধীরে ধীরে বাড়ছিল ভিড়৷ তার মধ্যে থেকেই একজন এসে দু’টো কালো প্লাস্টিকের পুঁটলি রেখে গেলেন জানলায় দাঁড়িয়ে থাকে মহুয়া মৈত্রকে দেখিয়ে৷ নীচে ততক্ষণে কালো পতাকাও দেখাতে শুরু করেছেন লোকজন৷ গোটা ঘটনাই নিজের ফেসবুক পেজে লাইভ করলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র৷ তাঁর সঙ্গে ছিলেন মমতাপন্থী বিধায়ক দোলা সেনও৷
শুধু এখানেই শেষ নয়৷ এদিন ডিম নিক্ষেপও করা হয় সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে। কালিগঞ্জে বৈঠকের মাঝেই আক্রান্ত হন তিনি। এছাড়া, মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে কাদা-গোবর ছোড়া হয়েছে বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, কালিগঞ্জের বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে বৈঠক চলছিল৷ সেই সময় মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে নীচ থেকে কাদা-গোবর ছোড়া হতে থাকে বাইরে থেকে। সাংসদকে লক্ষ্য করে ডিমও ছোড়া হয় বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনা নিজের মোবাইলে দৃশ্যবন্দি করেন খোদ মহুয়াই। তাঁকে কালো পতাকাও দেখানো হয়। গোটা বিষয়টি নিজের ফেসবুক লাইভে এসে দেখান মহুয়া। ফেসবুকে মহুয়া বলতে থাকেন, “দেখুন কীভাবে জানালা দিয়ে ডিম ছুড়ছে। কীভাবে ঘরের মধ্যে এসে পড়ছে ডিম। পুলিশ জাস্ট দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুলিশ কেবল দাঁড়িয়ে দেখছে।”
তৃণমূল সাংসদ সৌগত রায়কে দিয়ে শুরু৷ তারপরে সোনারপুর যাওয়ার পথে এই ডিম ছোড়া হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও৷ তারপর থেকেই যেন বিষয়টি ‘ট্রেন্ড’ হয়ে ওঠে৷ শওকত মোল্লা থেকে শুরু করে সব্যসাচী ডিম ছোঁড়া হয় তৃণমূলের বহু নেতার উদ্দেশ্যে৷ ভোট পরবর্তী নতুন বাংলায় এটাকে ‘ডিম থেরাপি’র এপিসোড বলছেন কেউ কেউ। যা পরবর্তীকালে সংক্রামক চেহারা নেয়। তৃণমূলের একেবারে ছোট, মেজো-বড় মাপেরনেতাদের লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে দেখা যায় জনতাকে।
এই ডিম থেরাপি নিয়েই সরব হয়েছিলেন মহুয়া । তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে ৷ থানা অভিযোগ না আদালত এমনকী সুপ্রিম কোর্টেও যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন ৷ আর মহুয়ার এই মন্তব্য ঘিরে তুমুল দানা বাঁধে বিতর্ক। অভিযোগ ওঠে, মহুয়া বিশেষ এক সম্প্রদায়ের মহিলাদের অপমান করছেন। নদিয়ার হোগলাবেড়িয়া থানায় তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআরও দায়ের হয়।
কিন্তু এদিন কালীগঞ্জে যে দৃশ্য দেখা গেল, তিনি ঘরের মধ্যে বৈঠক করছেন, জানতে পেরেই বাইরে জড়ো হয় জনতা। একেবারে রাস্তা থেকে ওই ঘরের জানালা লক্ষ্য করে ডিম ছুড়তে থাকেন বিক্ষোভকারীরা। আর সে মুহূর্তে জানালার আড়ালে থেকে সেটি মোবাইলবন্দি করতে দেখা যায় মহুয়াকেও।
