Last Updated:
পুণে তথা গোটা মহারাষ্ট্রে বহুল আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে এখন পুলিশের নজর ডিজিটাল প্রমাণ, ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন এবং সম্ভাব্য পলিগ্রাফ পরীক্ষার দিকেই। তদন্তে নতুন কোনও সূত্র মিলবে কি না, এখন সেদিকেই নজর সকলের।
উত্তর ২৪ পরগনা, রুদ্র নারায়ন রায়: পুণের ব্যবসায়ী কেতন আগরওয়াল হত্যা মামলার তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রহস্য। তদন্তকারীদের দাবি, এই মামলায় এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা সিসিটিভি ফুটেজ হাতে আসেনি, যা দিয়ে হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ীদের নিশ্চিতভাবে চিহ্নিত করা সম্ভব। ফলে গোটা তদন্ত বর্তমানে মূলত পারিপার্শ্বিক(Circumstantial) প্রমাণের উপর নির্ভর করেই এগোচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতনের হবু স্ত্রী তথা অভিযুক্ত সিয়া গোয়েল এবং মামলার সহ-অভিযুক্ত তথা সিয়ার প্রেমিক চেতন চৌধুরীর বয়ান ইতিমধ্যেই রেকর্ড করা হয়েছে। তবে তদন্তকারীদের মতে, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং তদন্তকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সিয়া গোয়েলের পলিগ্রাফ বা লাই-ডিটেক্টর টেস্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই কারণেই আদালতের কাছে এই পরীক্ষার অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। তদন্তকারীরা আদালতে জানিয়েছেন, গত ১৮ জুন লোনাভালার লোহাগড় দুর্গ থেকে কেতন আগরওয়ালকে পাহাড়ের নীচে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু ঠিক কে তাঁকে ধাক্কা দিয়েছিল, তার কোনও প্রত্যক্ষ সাক্ষী বা ভিডিও প্রমাণ এখনও পর্যন্ত মেলেনি। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ছোট-বড় সমস্ত ধরনের তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ করে একটি শক্তিশালী প্রমাণের শৃঙ্খল গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।
এদিকে তদন্তে ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণেও জোর দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছেন, অভিযুক্তরা অতীতে এই হত্যার পরিকল্পনা সংক্রান্ত কোনও ডিজিটাল তথ্য অনুসন্ধান বা সংগ্রহ করেছিলেন কি না। পাশাপাশি ঘটনাস্থলের পুনর্গঠন (রিকনস্ট্রাকশন) করেও ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাতে ঘটনা সম্বন্ধে নানা রকমের সম্ভাবনা উঠে আসে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যেসব মামলায় প্রত্যক্ষ প্রমাণের ঘাটতি থাকে, সেসব ক্ষেত্রে পলিগ্রাফ টেস্ট তদন্তকারীদের নতুন সূত্র খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে। তবে এই পরীক্ষার ফলাফল আদালতে অপরাধ প্রমাণের চূড়ান্ত ভিত্তি হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। এটি শুধুমাত্র তদন্তের দিশা নির্ধারণে সহায়ক হতে পারে।
বারাসাত আদালতের ক্রিমিনাল আইনজীবী দিয়া ঘোষ সহ একাধিক আইনজীবীর মতে, এই মামলায় তথ্যপ্রমাণের সীমাবদ্ধতার কারণে পলিগ্রাফ টেস্ট তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে দেশের সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, অভিযুক্তের স্বেচ্ছাসম্মতি ছাড়া কোনওভাবেই পলিগ্রাফ পরীক্ষা করা যায় না। ফলে সিয়া গোয়েল এই পরীক্ষায় সম্মতি না দিলে পুলিশের আবেদন খারিজ হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাক্তন এক সিআইডি আধিকারিক জানান, পলিগ্রাফ বা লাই-ডিটেক্টর টেস্টে সরাসরি মিথ্যা ধরা হয় না। পরীক্ষার সময় অভিযুক্তের শরীরে বিভিন্ন সেন্সর লাগিয়ে হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং ঘামের কারণে ত্বকের বৈদ্যুতিক পরিবাহিতার পরিবর্তন রেকর্ড করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে বিভিন্ন প্রশ্ন করা হয় এবং নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে সেটিকে সন্দেহজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপের কারণেও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। তাই এই পরীক্ষাকে শতভাগ নির্ভুল বা অপরাধ প্রমাণের একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় না।
