১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই কলকাতার এসপ্ল্যানেডে পুলিশ গুলিকাণ্ডে নিহতদের ন্যায়বিচারের দাবি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন জানিয়ে শুভেন্দু অধিকারীকে চিঠি দিয়েছেন NCPI সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার৷
1. ২১ জুলাই গুলিকাণ্ডের মামলা পুনরায় খুলে তদন্ত শুরু করা।
2. জ্যোতি বসু আমলের চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করা।
3. বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় কমিশনের রিপোর্ট প্রকাশ করা।
4. দোষী ও তাঁদের পদোন্নতি দেওয়া কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
5. প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ফরেনসিক পুনর্তদন্ত করা।
6. কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করা।
চিঠির শেষে বলা হয়েছে, যদি ন্যায়বিচার না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে এই ধারণা আরও জোরালো হবে যে বর্তমান সরকারও ১৯৯৩ সালের ঘটনার দায়ীদের রক্ষা করছে। তাই দ্রুত ও সিদ্ধান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এমনক, অভিযোগ, ঘটনার সময়ে যিনি রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব ছিলেন, সেই মণীশ গুপ্তকে গ্রেফতার বা বিচার করার পরিবর্তে মমতার সরকার ক্যাবিনেট মন্ত্রী এবং পরবর্তীতে রাজ্যসভার সাংসদ পদ দিয়ে পুরস্কৃত করেছিল।
১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত দিন। সেদিন কলকাতায় তৎকালীন বিরোধী দল Indian Youth Congress-এর ডাকা ‘মহাকরণ অভিযান’ (Writers’ Building অভিযানে) পুলিশের গুলিতে ১৩ জন আন্দোলনকারী নিহত হন। এই ঘটনাই পরে ‘২১ জুলাই শহিদ দিবস’ নামে পরিচিতি পায়।
সেই সময় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার এবং মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন জ্যোতি বসু। তৎকালীন যুব কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে কলকাতার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল বের হয়। আন্দোলনের অন্যতম দাবি ছিল ভোটার পরিচয়পত্র (EPIC) ছাড়া ভোট গ্রহণ না করা, কারণ বিরোধীদের অভিযোগ ছিল ভুয়ো ভোটারদের মাধ্যমে নির্বাচনে কারচুপি হচ্ছে।
মিছিলকারীরা মহাকরণের দিকে অগ্রসর হলে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গুলি চালায়। সরকারি হিসাবে ১৩ জন আন্দোলনকারী নিহত হন এবং বহু মানুষ আহত হন। বিরোধীরা অভিযোগ করে যে অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছিল। তৎকালীন সরকার জানায়, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।