তার আগেই অবশ্য তাঁর মা তথা পূর্বতন সরকারে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতর সামলানো মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে কালীঘাটে জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল৷ ছেলে নব তৃণমূলে আর মা আদি তৃণমূলে থাকা নিয়ে সেই সময়েই জল্পনা তৈরি হয়েছিল৷ তবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ‘‘মিউজিক্যাল চেয়ারের মতো। সৌরভ বসু কার ছেলে, কার নাতি গু্রুত্বপূর্ণ নয়। ব্যক্তি সৌরভ বসু এসেছেন৷’’
শনিবার অবশ্য ছেলেকে নিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিধানসভায় ঢুকতেই তাঁকে রিসিভ করতে এগিয়ে আসেন নব তৃণমূলের সন্দীপন সাহারা৷ ঋতব্রতদের ঘরেই গিয়ে বসেন চন্দ্রিমা৷ হাসিঠাট্টার দৃশ্যও ধরা পড়ে ক্যামেরায়৷
ছেলে সৌরভ বসু আগেই নব তৃণমূল শিবিরে৷ তিনি ছিলেন আদি তৃণমূলে৷ এদিন অবশ্য ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া নিয়ে কার্যত স্পষ্ট আভাসই দেন প্রাক্তন মন্ত্রী৷ তবে দাবি করেন, তাঁর ছেলে সৌরভ সেখানে গেলেও তিনি তাঁর নিজের অবস্থানে অবিচল ছিলেন৷
কুণাল ঘোষের অভিযোগ প্রসঙ্গে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দাবি করেন, ‘‘এর কোনও মানে নেই৷ এই কথার কোনও উত্তর হয় না৷ সৌরভ তো বেশ কিছুদিন আগেই গেছে৷ কুণাল ঘোষ বিশ্বাস করবেন কি করবেন না, তা নিয়ে আমার খুব একটা মাথাব্যথা নেই৷ কিন্তু, অনেকেই জানেন, অনেকেই বিশ্বাস করবেন হয়ত, এবং আমাদের এলাকায় যেখানে আমি থাকি, সেখানে ছেলেদের গিয়ে জিজ্ঞেস করলেও জানতে পারবেন, কুণালবাবু যদি একটু খোঁজ খবর নেন,এর মধ্যে সৌরভ যে ২২ তারিখে (২২ জুন) নভোটেলে গেছে, আমি সৌরভের সাথে গতকালের আগে অবধি একটা কথা পলিটিক্স নিয়ে বলিনি৷’’
তিনি দাবি করেন, নভোটেলে সেদিন কী আলোচনা হয়েছে সেটা যেমন তিনি সৌরভকে জিজ্ঞাসা করেননি, তেমনই কালীঘাটে কী আলোচনা হচ্ছে তা-ও সৌরভকে জানাননি৷
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কথায়, ‘‘সৌরভ কোথায় গেছে, সেখানে আমি যাব, সেটা ব্যাপার নয়৷ তাহলে তো সেদিনই চলে যেতাম৷ সেটা কথা নয়৷ সৌরভের ৪৭ বছর বয়স, ওর নিশ্চই স্বাধীন ভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে৷ এটা কুণালবাবু নিশ্চই বুঝবেন৷’’
‘‘তাহলে কেন তার পরেও আমাকে রেখে দিলেন (মমতা)?’’ চন্দ্রিমা দাবি করেন, ‘‘আমি তো যেদিনকে নভোটেলে সৌরভ গিয়েছে, আমি তৎক্ষণাৎ গিয়ে নেত্রীকে গিয়ে বলেছি, আমাকে ছেড়ে দিন৷ নেত্রী আমাকে বলেছিলেন, ও গেছে ঠিক আছে, তুমি থাকো৷ তো আমি ছিলাম, যেমন বলেছিলেন৷’’
এমনকি, চন্দ্রিমা জানান, তিনি তৃণমূলের দলীয কার্যালয় থেকে ফিরে মাঝেমধ্যে ছেলের স্থানীয় কার্যালয়ে গিয়ে বসতেন। কিন্তু, তাঁর ছেলে অন্য শিবিরে যাওয়ার পরে সেখানে তিনি যাননি। চন্দ্রিমার দাবি, ড্রাইভারকে তিনি বলেছেন, ‘‘দাদা অন্য় দল করে, আমি অন্য দল করি৷’’
এদিন অবশ্য চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি ‘অ্যাকশনে’ থাকবেন৷ অর্থাৎ, সক্রিয় রাজনীতিতে দেখা যাবে একদা মমতা ঘনিষ্ঠ এই নেত্রীকে৷