Last Updated:
আগ্রার দেহতোর এলাকার রেণুকা ধাম কলোনির বাসিন্দা ছিলেন সুরেন্দ্র ও তাঁর স্ত্রী রুবি৷ তাঁদের দুই মেয়েও রয়েছে৷
স্বামীর জন্য ক্ষীর বানিয়ে এনেছিলেন স্ত্রী। নিঃসংকোচেই সেই ক্ষীর খেয়ে নিয়েছিলেন আগ্রার বাসিন্দা ৪৪ বছরের সুরেন্দ্র শর্মা। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও তিনি টের পাননি যে ওই ক্ষীরের মধ্যেই ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দিয়েছেন তাঁর স্ত্রী রুবি।
সেই ক্ষীর খাওয়ার পরই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন সুেরন্দ্র৷ সেই সুযোগেই স্বামীেক খুন করে বাথরুমের মধ্যে গর্ত খুঁড়ে তার মধ্যে সুরেন্দ্রর দেহ চাপা দিয়ে দেয় রুবি৷ এর পর সেই গর্তের উপরে সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে তার উপরে টাইলসও লাগিয়ে দেয় সে৷
কিন্তু পুলিশে সুরেন্দ্রর নামে নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়েই উল্টে নিজে ফাঁদে পড়ে যান ৪০ বছর বয়সি রুবি৷ পরিবারের সদস্যদের বয়ানে অসঙ্গতি এবং ব্যাঙ্ক থেকে ঘন ঘন টাকা তোলার বহর দেখেই সন্দেহ হয় পুলিশের৷ শেষ পর্যন্ত রুিব এবং তার দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করেই বাড়ির বাথরুমের মেঝে খঁুড়ে সুেরন্দ্রর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ৷
পুলিশের ধারণা গত ১৮ মে সম্ভবত সুরেন্দ্রকে খুন করে তাঁ স্ত্রী রুবি৷ ২৬ মে সে থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করে৷ এর পরই সুরেন্দ্রর খোঁজ শুরু করে পুলিশ৷ শেষ পর্যন্ত সামনে আসে হাড় হিম করা এই হত্যাকাণ্ড৷
১৬ বছর আগে বিয়ে হয় সুরেন্দ্র এবং রুবির৷ তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, সুরেন্দ্র বেশ কিছুদিন ধরেই কর্মহীন ছিলেন৷ নিয়মিত মদ্যপানও করতেন তিনি৷ মদ কেনার জন্য স্ত্রী রুবির থেকে টাকা চাইতেন সুরেন্দ্র৷ টাকা না দিলে রুবিকে মারধর করতেন তিনি৷ ওই দম্পতির মধ্যে প্রায়শই ঝগড়া হতেও শুনেছেন প্রতিবেশীরা৷
পুলিশ জানতে পেরেছে, ক্ষীর খাওয়ার পর গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েন সুরেন্দ্র৷ মাঝেমধ্যেই সুরেন্দ্র মদ্যপান করে বেলা পর্যন্ত ঘুমোত বলে তাঁর দুই মেয়েও কিছু সন্দেহ করেনি৷ নিজের দুই মেয়েকে ভাইয়ের বাড়িতে রেখে এসে অচেতন অবস্থায় থাকা সুরেন্দ্রকে প্রথমে খুন করে রুবি৷ এর পর বাথরুমে গর্ত খুঁড়ে দেহ লুকিয়ে রাখে সে৷ পুলিশ যখন টাইলস ভেঙে সুরেন্দ্র দেহ উদ্ধার করতে যায় তখন সেটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে৷ সুরেন্দ্রর সেই দেহাবশেষই ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে পুলিশ৷ রুবিকে হেফাজতে নিয়ে জেরা শুরু করেছে পুলিশ৷
তবে স্বামীকে খুন এবং দেহ লোপাট পর্যন্ত সবটাই রুবি একা করেছে কিনা তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে তদন্তকারীদের মনে৷ কারণ যেভাবে সুরেন্দ্রর দেহ লোকানোর জন্য মেঝে খুঁড়ে গর্ত করে আবার তার উপর দিয়ে টাইলস বসানো হয়েছে, এর গোটাটা একা একজন মহিলার পক্ষে করা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছে পুলিশ৷ স্বামীকে খুন করে দেহ লোপাট করতে আর কেউ তাঁকে সহযোগিতা করেছে কি না, তা জানার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা৷
Kolkata,West Bengal
