Last Updated:
Murshidabad, Berhampore, Murshidabad district news, Khargram, Khargram rural hospital, Murshidabad News: এক বছরেরও বেশি আগে ইস্যু হওয়া জন্ম শংসাপত্রের ক্ষেত্রে কলকাতায় সর্বাধিক সংখ্যক সন্দেহভাজন ভুয়ো শংসাপত্র ধরা পড়েছে। শীর্ষ জেলাগুলি হল— কলকাতা: ৪,২৮৭টি, মুর্শিদাবাদ: ৩,৪৬৩টি
মুর্শিদাবাদ, কৌশিক অধিকারী: ভুরি ভুরি বার্থ সার্টিফিকেট, কিন্তু তা-ও সব বেআইনিভাবে ইস্যু করা হয়েছে। এবার অভিযোগ উঠল খোদ হাসপাতালের ব্লক মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে। স্থান, খড়গ্রাম হাসপাতাল থেকে বেআইনিভাবে ভুরি ভুরি বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গিয়েছে, গত বছর জুলাই মাস থেকে বিভিন্ন জেলায় প্রচুর বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। বেআইনিভাবে সার্টিফিকেট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খড়গ্রামের BMOH-এর বিরুদ্ধে। সূত্রের খবর, সার্টিফিকেট পাওয়া অধিকাংশই খড়গ্রাম এলাকার বাসিন্দা নন। কেউ নদিয়া, কেউ হুগলি, কেউ উঃ ২৪ পরগনার বাসিন্দা।
১৯৭২, ১৯৮০, ১৯৯৯, ২০০০-সহ বিভিন্ন সালের বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে অন্য এলাকার বাসিন্দা খড়গ্রামের বার্থ সার্টিফিকেট পেলেন? অভিযুক্ত BMOH রিন্টু গাজির অবশ্য দাবি, ‘‘কোনও অন্যায় করলে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত হোক।’’
ঘটনাটি নিয়ে মুর্শিদাবাদ জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সন্দ্বীপ সান্যাল জানান, ‘‘অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে’’। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বিধানসভা নির্বাচনের পরে বিজেপি সরকারের নজরে এসেছিল ‘SIR’ আবহে বিভিন্ন পুরসভা থেকে ইস্যু করা ‘ভুয়ো’ বার্থ সার্টিফিকেটের বিষয়ে। সূত্রের খবর, SIR-এর সময় পুরসভাগুলি যে বার্থ সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে, তা খতিয়ে দেখতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল বিজেপি সরকার।
ভোটের আগে SIR আবহে বার্থ সার্টিফিকেটে কারচুপির অভিযোগ তুলে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের কাছে জাল বার্থ সার্টিফিকেট নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন খোদ শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করবেন না তিনি। সমস্ত ধরনের দুর্নীতির ফাইল খুলে কড়া ব্যবস্থা নেবেন।
প্রসঙ্গত, ভুয়ো বার্থ সার্টিফিকেটের পরিসংখ্যানে শীর্ষে রয়েছে উত্তর দিনাজপুর, তালিকায় দ্বিতীয় উত্তর ২৪ পরগনা, উদ্বেগের ছবি মালদহ, মুর্শিদাবাদেও। ২০২৬ সালের ৬ জুন পর্যন্ত উপলব্ধ জেলা-ভিত্তিক জন্ম শংসাপত্র যাচাইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রশাসন পুরনো কাগজে ইস্যু হওয়া শংসাপত্র এবং ডিজিটাইজড রেকর্ড—উভয়েরই যাচাই সম্পন্ন করেছে। সেই প্রক্রিয়ায় একাধিক অসঙ্গতি সামনে এসেছে। দেখা গিয়েছে, প্রতি চারটি যাচাই করা পুরনো শংসাপত্রের মধ্যে প্রায় একটি সন্দেহভাজন৷ রিপোর্ট অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি আগে ইস্যু হওয়া মোট ৪৬,৯৯৫টি জন্ম শংসাপত্র যাচাইয়ের জন্য নেওয়া হয়েছিল।
