তবে একই প্রতিবেদনে উঠে এসেছে আরও বড় তথ্য। ভারতের ৫টি রাজ্য ইতিমধ্যেই উচ্চ-মধ্যম আয়ের (Upper Middle Income) স্তর অতিক্রম করেছে। অর্থাৎ দেশের সব রাজ্যের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সমান গতিতে হয়নি। কোথাও উন্নয়নের গতি দ্রুত, কোথাও আবার এখনও অনেকটা পথ বাকি।
বিশ্বব্যাঙ্কের নির্ধারিত মানদণ্ড অনুযায়ী, মাথাপিছু আয় ৪,৬৩৬ মার্কিন ডলার বা তার বেশি হলে সেই অঞ্চলকে উচ্চ-মধ্যম আয়ের শ্রেণিতে ধরা হয়।
দিল্লি – ৬,২১৭ মার্কিন ডলার, কর্নাটক – ৫,৫৭৯ মার্কিন ডলার, তেলেঙ্গানা – ৫,৪০৭ মার্কিন ডলার, তামিলনাড়ু – ৫,৩২৯ মার্কিন ডলার, গুজরাত – ৪,৭০৮ মার্কিন ডলার
আরও তিনটি রাজ্য খুব অল্প ব্যবধানে উচ্চ-মধ্যম আয়ের সীমার নিচে রয়েছে।
মহারাষ্ট্র – ৪,৬২৮ মার্কিন ডলার, হরিয়ানা – ৪,৬২৭ মার্কিন ডলার, কেরল – ৪,৬১০ মার্কিন ডলার
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এই তিনটি রাজ্যও উচ্চ-মধ্যম আয়ের তালিকায় যোগ দিতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে কম মাথাপিছু আয়ের রাজ্যগুলি হল—
বিহার – ৯৮৪ মার্কিন ডলার, উত্তরপ্রদেশ – ১,৪০৩ মার্কিন ডলার, ঝাড়খণ্ড – ১,৪৭০ মার্কিন ডলার
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে বিরাট বৈষম্য রয়েছে।
বিশ্বব্যাঙ্কের তথ্য অনুযায়ী, বিহারের মাথাপিছু আয় মাত্র ৯৮৪ মার্কিন ডলার। এটি শুধু ভারতের গড়ের তুলনায় অনেক কম নয়, নেপাল এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার একাধিক দেশের থেকেও কম।
এ থেকেই বোঝা যায়, ভারতের উন্নয়নের গতি সব রাজ্যে সমান নয়।
প্রতিবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হল গত তিন দশকের পরিবর্তন।
১৯৯৪ সালে ভারতের কোনও বড় রাজ্যই মধ্যম আয়ের স্তরে ছিল না। কিন্তু ২০২৫-২৬ সালে এসে একাধিক রাজ্য বিশ্বব্যাঙ্কের উচ্চ-মধ্যম আয়ের মানদণ্ড পূরণ করেছে।
এগিয়ে যাওয়া রাজ্যওডিশা মাথাপিছু আয়ের নিরিখে উত্তরপ্রদেশকে ছাড়িয়ে গেছে। বর্তমানে ওডিশার মাথাপিছু আয় উত্তরপ্রদেশের তুলনায় ৭৫ শতাংশ বেশি। অসম ঝাড়খণ্ডকে পিছনে ফেলেছে। অসমের মাথাপিছু আয় এখন ঝাড়খণ্ডের তুলনায় ৪৮ শতাংশ বেশি। পিছিয়ে পড়া রাজ্যএকসময় দেশের অন্যতম ধনী রাজ্য পাঞ্জাব এখন রাজস্থানের সমতুল্য অবস্থানে নেমে এসেছে। শুধু তাই নয়, বর্তমানে পাঞ্জাব আরও সাতটি রাজ্যের পিছনে চলে গিয়েছে।
ভারতীয় রাজ্যগুলির আয় এখন কোন কোন দেশের সমান?
কর্নাটক ও তেলেঙ্গানার মাথাপিছু আয় ইন্দোনেশিয়া (৫,১২০ ডলার) ও ভিয়েতনাম (৪,৯৭০ ডলার)-এর থেকেও বেশি।ভারতের কয়েকটি রাজ্যের আয় দক্ষিণ আফ্রিকা (৬,২৭০ ডলার), ফিজি (৬,২৩০ ডলার) এবং মঙ্গোলিয়া (৬,২১০ ডলার)-এর সমতুল্য বা তারও বেশি। ভারতের উন্নয়নের ক্ষেত্রে প্রতিটি রাজ্যের পথ আলাদা।