Last Updated:
Business Growth: ছোটবেলায় খেয়ালবশে আটা দিয়ে পশুপাখি তৈরির সুপ্ত প্রতিভাকে সম্বল করে আজ বিশ্বমঞ্চে জায়গা। ২৭ বছর বয়সী যুবক সামন্ত হাজরা। তিনি নিজের প্রতিভার জোরে আজ তিনি সফল। কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই, পৈতৃক পাওয়ারলুম সামলানোর পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেছেন মিনিয়েচার প্রতিমা শিল্পের এক অনন্য জগৎ।
শান্তিপুর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: ছোটবেলায় মায়ের মেখে রাখা আটা দিয়ে খেয়ালবশে তৈরি করতেন নানা পশুপাখির আকৃতি। সেই ছোট্ট হাতের সুপ্ত প্রতিভাই যে একদিন তাঁকে বিশ্বমঞ্চে পরিচিতি এনে দেবে, তা হয়ত ভাবেননি নদিয়ার শান্তিপুরের সূত্রাগড় তামলিপাড়ার যুবক সামন্ত হাজরা। আজ কোনও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই, শুধুমাত্র নিজের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রমে ২৭ বছরের এই যুবক তৈরি করেছেন মিনিয়েচার প্রতিমা শিল্পের এক অনন্য জগৎ।
সোশ্যাল মিডিয়ার হাত ধরে তাঁর এই সূক্ষ্ম শিল্পকর্ম এখন জেলা ও রাজ্যের সীমানা ছাড়িয়ে পাড়ি দিচ্ছে সুদূর আমেরিকা, দুবাই ও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। সংসার চালাতে পৈতৃক দুটি পাওয়ারলুম সামলানোর পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে গেছেন তিনি। ছবি আঁকাকে ভালবেসে ২০২১ সালে স্নাতক হওয়ার পর নিজের মনের টানে প্রতিমা নির্মাণকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন সামন্ত। সামন্তর কাজের মূল বৈশিষ্ট্য, তিনি কোনও ছাঁচ ব্যবহার করেন না।
সম্পূর্ণ সলিড মাটি দিয়ে নিখুঁত হাতে ফুটিয়ে তোলেন এক-একটি প্রতিমা। অত্যন্ত ধৈর্য ও সময়সাপেক্ষ এই কাজে প্রতিমার শাড়ি, চুল থেকে শুরু করে অলঙ্কার, সবটাই সামন্ত নিজে হাতে তৈরি করেন। ছাঁচবিহীন এই সূক্ষ্ম কাজের জন্য দাম সামান্য বেশি হলেও, গুণমানের কাছে তা ম্লান হয়ে যায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমই আমার এই শিল্পকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দিয়েছে। শান্তিপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিমা নির্মাণশৈলীকে নতুন প্রজন্মের কাছে এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরাই লক্ষ্য।
সম্প্রতি সামন্তর তৈরি ২২ ইঞ্চির একটি অপূর্ব জগদ্ধাত্রী প্রতিমা বিমানে চড়ে পাড়ি দিচ্ছে উত্তরপ্রদেশের বেনারসে। প্রায় চার মাস আগে ফেসবুক পেজে সামন্তর কাজ দেখে মুগ্ধ হয়ে এই অর্ডারটি দেন বেনারসের এক ক্রেতা। সম্পূর্ণ হাতে তৈরি এই প্রতিমাটি গড়তে সামন্তর সময় লেগেছে প্রায় এক মাস। পরিবহণের সময় যাতে কোনও ক্ষতি না হয়, তাই প্রতিমার শেষ মুহূর্তের অঙ্গসজ্জা অবশ্য ক্রেতা নিজেই করে নেবেন।
Nadia,West Bengal