Last Updated:
ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর)-এ বুধবার সফলভাবে পরীক্ষা করা হল ডিআরডিও-র তৈরি পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট (LRGR)। পরীক্ষায় রকেটটি নির্ধারিত ৬০ কিলোমিটার ন্যূনতম পাল্লার লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
ভারতের প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন সংস্থা (ডিআরডিও) বুধবার ওড়িশার চাঁদিপুরে অবস্থিত ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ (আইটিআর)-এ পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেট (LRGR)-এর সফল উড়ান পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। এই পরীক্ষায় রকেটটির ন্যূনতম নির্ধারিত পাল্লা ৬০ কিলোমিটার ছিল এবং সেই লক্ষ্য সফলভাবে অর্জন করেছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরীক্ষার সময় রকেটটি নির্ধারিত সব ইন-ফ্লাইট কৌশল (ম্যানুভার) সফলভাবে সম্পন্ন করে এবং পূর্বনির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে নির্ভুলভাবে আঘাত হানে। এই সাফল্যকে ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে একটি বড় মাইলফলক বলে উল্লেখ করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর কথায়, সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই রকেট ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা সক্ষমতার আরও এক বড় প্রমাণ।
এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে একই চাঁদিপুর পরীক্ষাকেন্দ্র থেকেই ১২০ কিলোমিটার পাল্লার পিনাকা লং রেঞ্জ গাইডেড রকেটের প্রথম সফল উড়ান পরীক্ষা করা হয়েছিল। ফলে বর্তমানে এই রকেটের কার্যকর পাল্লা ৬০ থেকে ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। প্রথম পরীক্ষার পরই রাজনাথ সিং বলেছিলেন, এই রকেট ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর যুদ্ধক্ষমতা আরও বাড়াবে।
সরকার জানিয়েছে, হাই এনার্জি ম্যাটেরিয়ালস রিসার্চ ল্যাবরেটরি (HEMRL) এবং আর্মামেন্ট রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এস্টাবলিশমেন্ট (ARDE) যৌথভাবে এই রকেটটি তৈরি করেছে। এ কাজে সহায়তা করেছে ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরি (DRDL) এবং রিসার্চ সেন্টার ইমারত (RCI)। ইতিমধ্যেই সেনাবাহিনীতে ব্যবহৃত পিনাকা লঞ্চার থেকেই এই রকেট উৎক্ষেপণ করা হয়।
ডিআরডিও-র চেয়ারম্যান, প্রতিরক্ষা সচিব এবং প্রতিরক্ষা গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগের সচিব রাজেশ কুমার সিং নিজে পরীক্ষার পুরো প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও প্রযুক্তিবিদদের সঙ্গে সমন্বয় রাখেন বলে জানানো হয়েছে।
এদিকে, মার্কিন সাময়িকী The National Interest-এ প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ ব্র্যান্ডন জে. ওয়াইকার্ট লিখেছেন, ভারত ধীরে ধীরে এমন ক্ষেপণাস্ত্র ও রকেট ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, যা শুধু নির্দিষ্ট এলাকা দখলে সহায়তা নয়, বরং দূরপাল্লার নির্ভুল হামলা (Long-Range Precision Strike) চালাতে সক্ষম। তাঁর মতে, এর ফলে ভবিষ্যতের যেকোনও সংঘাতে ভারতের প্রচলিত সামরিক প্রতিক্রিয়ার পরিধি আরও বিস্তৃত হবে এবং যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়েই কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা সম্ভব হবে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
