Last Updated:
Tarapith Temple: এক বছরেরও বেশি সময় পর অবশেষে তারাপীঠ মন্দিরের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে কোটি কোটি টাকা। কেন এতদিন এই অর্থ আটকে ছিল, কত টাকা এসেছে এবং মন্দিরের উন্নয়নে কীভাবে তা ব্যবহার করা হবে, জেনে নিন বিস্তারিত।
বীরভূম, সৌভিক রায়: সাধক বামদেবের অন্যতম তীর্থভূমি তারাপীঠের মা তারার মন্দির প্রত্যেকদিন হাজার হাজার পর্যটক মন্দির দর্শনের জন্য আসেন। আর এই মন্দিরে চালু রয়েছে ভিআইপি লাইন, সেখান থেকে প্রত্যেকদিন হাজার হাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা উপার্জন হয়। এছাড়াও তারাপীঠে আগত বহু পর্যটক মন্দির সংস্কারের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা মুক্ত হস্তে দান করেন। সেই সমস্ত টাকা প্রায় দেড় বছর পর তারাপীঠ মন্দিরের অ্যাকাউন্ট জমা পড়েছে। সেই অঙ্কের পরিমাণ আড়াই কোটি টাকা। ইতিমধ্যে প্রায় দুই কোটি টাকা খরচ করে দেওয়া হয়ে জীবিতকুণ্ড সংস্কারের নামে। সেটা নিয়েও তদন্ত শুরু করেছে বীরভূম জেলা প্রশাসন।
সদ্য দায়িত্ব নেওয়া নতুন কমিটি জানিয়েছে, দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরেই সমস্ত আয় ব্যয়ের হিসেব শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত, তারাপীঠ মন্দিরের নিয়মকানুন নিয়ে পূর্বতন জেলা শাসক বিধান রায় কিছু শর্ত আরপ করেছিলেন। কিছু দিন সেই নিয়ম মেনে চলার পর ফের মন্দিরের সেবাইতদের নিয়মই প্রতিষ্ঠা পায়। ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর একটি অস্থায়ী কমিটি গঠন করে দেন বিধান রায়। সেই কমিটির প্রধান করা হয় বামাপদ মুখোপাধ্যায় ওরফে রবিকে। তাকে সহযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয় মন্দির কমিটিকে। দায়িত্ব পাওয়ার পর মন্দিরের নিত্যদিনের মোটা অঙ্কের আয়ের টাকা নিজের কাছে গচ্ছিত রেখেছিলেন রবিবাবু।
এই নিয়ে মন্দিরের সেবায়েতদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। তবে পূর্বতন শাসক দলের ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে চাননি। সরকার পরিবর্তন হতেই মন্দির কমিটি নিয়ে কথা উঠতে শুরু করে। তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠকে মন্দিরের অনিয়ম নিয়ে তদন্তের আবেদন জানান রামপুরহাট বিধায়ক বিজেপির ধ্রুব সাহা। এরপরেই জেলা শাসকের তত্ত্বাবধানে তদন্ত শুরু হয়। এরই মাঝে ১ জুলাই পুরনো কমিটি ভেঙে দিয়ে নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়কে সভাপতি এবং পুলক চট্টোপাধ্যায়কে সম্পাদক ঘোষণা করা হয়। এর পাশাপাশি ১৫ জনের নতুন কমিটি গড়া হয়। শনিবার ফের তারাপীঠ রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদের বৈঠক ডাকা হয়। সেখানেই অতিরিক্ত জেলা শাসক মন্দিরের টাকা ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন। তারপরেই ২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মন্দিরের একটি অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়।
বামাপদ মুখোপাধ্যায় বলেন, “আগে আমার সঙ্গে অনেক সেবায়েত ছিলেন। কিন্তু এখন কাউকে পাচ্ছি না। আমি প্রথম থেকে চেয়েছিলাম টাকা অ্যাকাউন্ট এ রাখব। কিন্তু মন্দির কমিটির নামে ৫ টি অ্যাকাউন্ট রয়েছে। যার অপারেটর ভিন্ন। তাই গণ্ডগোলের আশঙ্কায় ব্যাঙ্কে টাকা রাখা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া সে সময় সমস্ত পাশবই আমাকে দেওয়া হয়নি। বিভিন্ন কারণে টাকা আমার কাছে গচ্ছিত ছিল। শনিবার জেলা প্রশাসনের নির্দেশে আড়াই কোটি টাকা মন্দির কমিটির একটি আকাউন্টে জমা করা হয়েছে। তিন আরও জানান গচ্ছিত টাকা থেকে ১ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা জীবিতকুণ্ড সংস্কারে খরচ করা হয়েছে”। তারাপীঠ মন্দিরের সম্পাদক পুলক চট্টোপাধ্যায় বলেন, “আমরা প্রশাসনের নিয়ম মেনেই মন্দির পরিচালনা করছি। পুরনো কমিটি এখন দায়িত্ব বুঝিয়ে দেয়নি। আমরা মন্দিরের আয়ের টাকা ব্যক্তিগতভাবে গচ্ছিত রাখার বিরোধিতা করে এসেছিলাম। এতদিন পরে তার ফল মিলল। আমরা ১ জুলাই থেকে নতুন কমিটি কাজ করছি। সমস্ত হিসাব বুঝে অ্যাকাউন্ট হাতে পেলে নিয়মিত মন্দিরের টাকা ব্যাঙ্ক আকাউন্টে জমা রাখবো।”
Kolkata,West Bengal
