Last Updated:
Money Making Tips: বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের হাত ধরে কীভাবে ঘুরে যায় গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা, তার সেরা উদাহরণ মেদিনীপুরের ঘাটাল। আজ থেকে ৪৫ বছর আগে যে রথ তৈরির কাজ শুরু করেছিলেন বাড়ির পুরুষেরা, আজ তা সগৌরবে টিকিয়ে রেখেছেন ঘরের বউরা। ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে এবার তৈরি হয়েছে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৫০টি কাঠের রথ, যা হাওড়া ও হুগলির বাজারেও দারুণ সাড়া ফেলেছে।
ঘাটাল, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: আর মাত্র একটা দিনের অপেক্ষা। তারপরেই দড়িতে টান দিয়ে উৎসবের আনন্দে মাতবে আপামর বাঙালি। রথযাত্রা উৎসব যত এগিয়ে আসছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ঘাটালের আড়গোড়া এলাকায় তত যেন বাড়ছে চরম ব্যস্ততা, একদিকে গ্রাহকদের চাহিদা মতো রথ তৈরি অন্যদিকে বিক্রির ব্যস্ততা। নাওয়া-খাওয়া ভুলে দিনরাত এক করে এখন কাঠের রথ তৈরিতে মগ্ন এখানকার প্রামাণিক পরিবারের সদস্যরা, বিশেষ করে ওই পরিবারের মহিলারা।
আজ থেকে কয়েক দশক আগে এই প্রামাণিক পরিবারের পুরুষ সদস্যরাই মূলত রথ তৈরির কাজ করতেন। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেই ঐতিহ্যের ব্যাটন এখন পুরোপুরি মহিলাদের হাতে। প্রতিদিন সংসারের যাবতীয় খুঁটিনাটি কাজ সামলেও উৎসবের আগের কয়েক মাস ধরে তাঁরা নিপুণ হাতে তৈরি করে চলেন একের পর এক সুদৃশ্য কাঠের রথ। জানা গিয়েছে, প্রামাণিক পরিবারের এই কাঠের রথ তৈরির ঐতিহ্য প্রায় ৪৫ বছরের পুরনো। রথের পুণ্য তিথিতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এই কাঠের রথ কিনে, ফুল-পাতা দিয়ে সাজিয়ে রথ টানার আনন্দে মেতে ওঠে। কচিকাঁচাদের সেই বাঁধভাঙা আনন্দের জোগান দিতেই অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন বাড়ির গৃহবধূরা।
পরিবার সূত্রে খবর, চলতি বছরে ছোট, মাঝারি এবং বড়— এই তিন ধরনের আকার মিলিয়ে মোট ১৫০টি কাঠের রথ তৈরি করেছেন তাঁরা। আকার ও কারুকাজ অনুযায়ী রথগুলির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে ৫০০, ৬০০ এবং ৭৫০ টাকা। গুণমান এবং নিখুঁত সৌন্দর্যের কারণে প্রামাণিকদের তৈরি এই রথের চাহিদা এখন রীতিমতো আকাশছোঁয়া। রথ কিনতে ক্রেতারা সরাসরি এসে ভিড় জমাচ্ছেন তাঁদের বাড়িতে। পরিবারের সদস্যরা অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে জানাচ্ছেন, তাঁদের হাতের তৈরি এই কাঠের রথ এখন আর কেবল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার গণ্ডিতেই আটকে নেই। ক্রেতাদের হাত ধরে তা সগৌরবে পাড়ি দিচ্ছে হাওড়া এবং হুগলির মতো পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতেও।
Paschim Medinipur,West Bengal