Last Updated:
Rath Yatra 2026: প্রতিকূল আবহাওয়া এবং বাজারের মন্দার কারণে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কাঠের ছোট রথ নির্মাতাদের। পোড়ামাতলার রাস্তার দু’ধারে রথের পসরা সাজিয়ে বসার প্রস্তুতি নিলেও, এবার তীব্র গরম ও টানা বৃষ্টির কারণে রথ তৈরির পরিমাণ অনেক কমে গিয়েছে। কমেছে বিক্রির পরমাণও।
নবদ্বীপ, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: হাতে আর মাত্র একটা দিন। তারপরই রথযাত্রা। প্রতিবছরের মতো এবারও রথের আগের দিন এবং রথের দিন নবদ্বীপের পোড়ামাতলার রাস্তার দু’ধারে ছোট-বড় রথের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের অপেক্ষায় বসবেন কাঠমিস্ত্রিরা। তবে উৎসবের আগে এবার রথ তৈরির ব্যস্ততার মধ্যেও চিন্তার ছাপ স্পষ্ট নবদ্বীপের রাণীরচড়া এলাকার মিস্ত্রিপাড়ায়। পোড়ামাতলায় বিক্রি হওয়া ছোট-বড় কাঠের রথের অধিকাংশই তৈরি হয় এই মিস্ত্রিপাড়ায়। রথযাত্রা এগিয়ে আসতেই এলাকার বহু বাড়িতে এখন দিনরাত এক করে চলছে কাজ।
খাওয়া-দাওয়া, ঘুম কার্যত ভুলে রথ তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা। কারণ, ছোট একটি রথ তৈরি করতেও রয়েছে দীর্ঘ এবং শ্রমসাধ্য প্রক্রিয়া। প্রথমে নির্দিষ্ট মাপ অনুযায়ী কাঠ কেটে নেওয়া হয়। এরপর কাটা কাঠগুলি সাজিয়ে পিন মেরে তৈরি করা হয় রথের খাঁচা। তারওপর খড়িমাটি বা সাদা রংয়ের প্রলেপ দেওয়া হয়। সেই রং শুকিয়ে গেলে উজ্জ্বল হলুদ, সবুজ ও লাল রং দিয়ে রথ সাজানো হয়। সঙ্গে চলে বিভিন্ন ধরনের কারুকার্য এবং সাজসজ্জা। আলাদাভাবে গোলাকার করে কাঠ কেটে তৈরি হয় রথের চাকা। রং করার পর অত্যন্ত নিখুঁতভাবে সেই চাকা রথের নিচে লাগান কারিগররা।
রথ তৈরি শেষ হলে পোড়ামাতলার রাস্তার পাশে পসরা সাজিয়ে বসেন মিস্ত্রিপাড়ার ছুতোররা। রঙিন রথ দেখে কচিকাঁচাদের আবদার আর সেই আবদার মেটাতে বাবা-মায়ের কেনাকাটাই তাঁদের মূল ভরসা। কারিগর নারায়ণ শর্মা বলেন, “এ বছর পরিস্থিতি খুব একটা ভাল লাগছে না। তাও বিক্রির আশায় বানাচ্ছি। সাধারণত বিক্রি হয়ে যায়, মাঝে মধ্যে দু-একটা রথ ফেরত আসে। তাঁর কথায়, প্যাঁচপ্যাঁচে গরম এবং গত দু’-তিন দিনের টানা বৃষ্টিতে কাজ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। উঠোন ছেড়ে ঘরের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে এবার রথ তৈরির পরিমাণও কমেছে।
কাঠমিস্ত্রি শংকর শর্মা জানান, এবার মাত্র ৫০ থেকে ৬০টি রথ তৈরি করেছেন। অথচ আগে ১০০ থেকে ১৫০টি রথ বানাতেন। ২০০ থেকে ২৫০ টাকা দামের ছোট রথই বেশি তৈরি করছেন। এক থেকে দেড় হাজার টাকা দামের বড় রথের ক্রেতা কম থাকায় সেগুলি বেশি বানানোর সাহস পাচ্ছেন না। তাঁর আশঙ্কা, “এখন ৫০টা রথ বানিয়েও ভয় হচ্ছে, বিক্রি হবে কি না।” মিস্ত্রিপাড়ার প্রবীণ কাঠমিস্ত্রি আনন্দ শর্মার আক্ষেপ, যে পরিমাণ পরিশ্রম করতে হয়, সেই অনুযায়ী দাম মেলে না। পাশাপাশি প্লাস্টিকের বিভিন্ন সামগ্রী বাজার ছেয়ে যাওয়ায় কাঠের জিনিসের কদরও কমেছে। তবে তাঁর দৃঢ় বিশ্বাস, যাঁরা বোঝেন, তাঁরা এখনও কাঠের জিনিসই চান।
Nadia,West Bengal
Jul 15, 2026 10:18 PM IST