Last Updated:
১০ কামরার এই ট্রেনটিতে ২৬০০ যাত্রী যাতায়াত করতে পারবেন৷ প্রতিদিনই এই ট্রেনটি যাত্রী পরিষেবা দেবে৷
আজ থেকেই ভারতে প্রথমবার হাইড্রোজেন ট্রেনে শুরু হল যাত্রী পরিষেবা৷ ভারতীয় রেলের ইতিহাসে যা এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ বলেই মনে করা হচ্ছে৷ শুক্রবার হরিয়ানার ঝিন্দ স্টেশন থেকে সবুজ পতাকা দেখিয়ে ট্রেনটির যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷
পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে হাইড্রোজেন ট্রেন একটি বড় পদক্ষেপ৷ শুধু পরিবেশবান্ধব রেল পরিষেবাই নয়, হাইড্রোজেন ট্রেনের ভাড়াও সাধারণ মানুষের একেবারে সাধ্যের মধ্যে৷
শুক্রবার উত্তর রেলের অন্তর্গত হরিয়ানার ঝিন্দ থেকে সোনিপথ পর্যন্ত চালু হওয়া এই ট্রেনটি ৯০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে৷ নতুন এই হাইড্রোজেন ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া মাত্র ৫ টাকা৷ সর্বোচ্চ ভাড়া ২৫ টাকা৷ পৃথিবীর হাতেগোনা কয়েকটি দেশেই হাইড্রোজেন ট্রেন পরিষেবা চালু আছে৷
শুক্রবার চালু হওয়া হাইড্রোজেন ট্রেনে যে যাত্রীরা চড়েছেন, তাঁরাও ৫ টাকা দিয়েই টিকিট কেটেছেন৷ এর পর ধাপে ধাপে দূরত্ব অনুযায়ী ট্রেনের ভাড়া ২৫ টাকা পর্যন্ত ধার্য করা হয়েছে৷ এই মুহূর্তে দেশের অনেক রেল স্টেশনে প্ল্যাটফর্ম টিকিটের দামও হাইড্রোজেন ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাডা়র থেকে বেশি৷
ঝিন্দ থেকে সোনিপথের মধ্যে ৯০ কিলোমিটার পথ দু ঘণ্টায় অতিক্রম করবে এই নতুন ট্রেন৷ এই রুটে হাইড্রোজেন ট্রেনের অনুমোদিত গতি ঘণ্টায় ৭৫ কিলোমিটার৷ যদিও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১১০ কিলোমিটার গতিতে চলতে পারে এই ট্রেন৷
ভারতীয় রেলে বর্তমানে যে ট্রেনগুলি রয়েছে সেগুলি হয় ডিজেল নয়তো ওভারহেড বিদ্যুৎ সংযোগের সাহায্যে চলে৷ কিন্তু নতুন এই ট্রেনটি চলতে চলতেই ভিতরে থাকা হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল থেকেই বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়৷ সেই বিদ্যুতের সাহায্যেই চলে ট্রেন৷
ফুয়েল সেলের ভিতরে অক্সিজেনের সঙ্গে হাইড্রোজেনের বিক্রিয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়৷ এই প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র জলীয় বাষ্প এবং তাপ পরিবেশে নির্গত হবে৷ ফলে পরিবেশ দূষণেরও কোনও ভয় নেই৷
ট্রেন চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় হাইড্রোজেন ঝিন্দ-এর একটি ডেডিকেটেড প্ল্যান্ট থেকে সরবরাহ করা হবে৷
Kolkata,West Bengal
