Last Updated:
CPIM Statement: প্রসঙ্গত, এই বিক্ষোভের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিনিধিরা সোমবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি-সংবলিত একটি চিঠি জমা দিয়েছেন।
নয়াদল্লি: সোমবার থেকে সংসদে শুরু হয়েছে বাদল অধিবেশন৷ আর অধিবেশন শুরুর দিনেই ছিল ককরোচ জনতা পার্টির ‘চলো সংসদ’ অভিযান৷ যে অভিযান ঘিরে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল রাজধানীর রাস্তা৷ গত শনিবার, ১৮ জুলাই অনশন শুরু করেছিলেন। সংসদ অভিযানের আগে জন্তর মন্তরে সিজেপি-র কর্মসূচির মধ্যেই তিনি অনশন ভাঙেন। এদিন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে দেখা করে তাদের দাবি-সংবলিত একটি চিঠি জমা দেন অভিজিৎ দিপকে৷ তবে, সোনম ওয়াংচুক সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতে লেখা একটি চিঠির মাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ২৩ পরেও তিনি অনশন ভাঙছেন না৷
এদিন সিজেপি তথা ছাত্র আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডার মুখোমুখি সাক্ষাৎকে আন্দোলনকারীদের ‘জয়’ বলেই অভিহিত করেছে সিপিএম৷ পাশাপাশি, এদিন পলিটব্যুরোর তরফ থেকে জারি করা বিবৃতিতে আন্দোলনকারীদের উপরে লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস চালানোর ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে৷
এদিন ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী)-এর (সিপিআই(এম)) পলিটব্যুরোর তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়, ‘‘ককরোচ জনতা পার্টি-র ডাকে এবং বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সমর্থনে সংসদ অভিযানের উদ্দেশ্যে যন্তর মন্তরে জড়ো হওয়া হাজার হাজার ছাত্র-যুবককে অভিনন্দন।’’ পলিটব্যুরোর দাবি, এই সমাবেশ মোদি সরকারের কর্তৃত্ববাদী মনোভাবের যোগ্য জবাব।
পলিটব্যুরো আজ, সোমবার দিল্লির যন্তর মন্তর ও তার আশপাশে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের উপর পুলিশের নৃশংস লাঠিচার্জ ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপেরও তীব্র নিন্দা করে।
পলিটব্যুরোর দাবি, মোদি সরকার অবিলম্বে আন্দোলনকারীদের দাবি মেনে নিক। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে, ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ) ভেঙে দিতে হবে এবং আন্দোলনের সময় গ্রেফতার হওয়া সকলকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।
এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় এদিনের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে পোস্ট করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও৷ তিনি লেখেন, ‘‘আজ দিল্লিতে ছাত্র-যুবদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানাই। যে সরকার নিজের দেশের ছাত্রদেরই ভয় পায়, তাকে কেমন সরকার বলা যায়? যে গণতন্ত্রে মানুষের প্রশ্নের জবাব সংলাপের মাধ্যমে নয়, লাঠি ও কাঁদানে গ্যাস দিয়ে দেওয়া হয়, তাকে কেমন গণতন্ত্র বলা যায়?’’
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে মমতা লেখেন, ‘‘আমি আমার তরুণ ভাই-বোনদের পাশে দৃঢ়ভাবে রয়েছি। প্রত্যেককে তাঁদের সাহস, অদম্য মনোবল এবং প্রতিকূলতার মধ্যেও অবিচল থাকার জন্য স্যালুট জানাই। তাঁরা গোটা দেশকে দেখিয়ে দিয়েছেন, নির্ভীক হওয়া কাকে বলে।’’
অন্যদিকে, সিজেপি-র প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনার পরে বিষয়টি নিয়ে আশাবাদী পোস্ট করেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা৷ সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘‘আজ সকালে প্রথমবার আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে সরকারের সঙ্গে আলোচনার প্রস্তাব আসে। সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকেই তাঁদের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে। তাঁদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে প্রথমে বিস্তারিত মৌখিক আলোচনা হয়। পরে বিকেল প্রায় ৪টা নাগাদ তাঁরা আমাকে লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। আমি সমস্ত আন্দোলনকারীর কাছে আবেদন জানিয়েছি, তাঁরা যেন তাঁদের ধর্না প্রত্যাহার করেন এবং স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেন।’’
সহ প্রতিবেদক- আবির ঘোষাল
Jul 20, 2026 10:20 PM IST
