Last Updated:
Chocolate Tree: চকোলেট যে গাছের ফল থেকে তৈরি হয়, তা অনেকেরই অজানা। কোকো বা কাকাও গাছের ফল থেকে কীভাবে চকোলেট তৈরি হয়, এই গাছের চাষ কীভাবে করা যায় এবং বাড়িতে লাগানো সম্ভব কি না, জেনে নিন বিস্তারিত।
জলপাইগুড়ি, সুরজিৎ দে: চকোলেট খেতে কে না ভালবাসে ! কিন্তু ভাবুন তো, দোকান থেকে কিনে খাওয়ার বদলে যদি নিজের বাগানের গাছে ধরা ফল থেকেই তৈরি হয় প্রিয় চকোলেট, তবে ব্যাপারটা ঠিক কেমন হবে। প্রথম শুনলে মনে হতে পারে কোনও রূপকথা কিন্তু উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ায় এই অসম্ভবকেই অত্যন্ত সহজে সম্ভব করার দিশা দেখাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা।
মাত্র ২০ টাকার একটি চারা গাছই ভবিষ্যতে আপনার “চকলেটের স্বপ্ন” সত্যি করতে পারে! কীভাবে সম্ভব এই অসাধ্য সাধন?
জলপাইগুড়ির মোহিতনগরে অবস্থিত ‘আইসিএআর’ (ICAR)-এর কেন্দ্রীয় রোপণ ফসল অনুসন্ধান কেন্দ্রের বিজ্ঞানী ড. অরুণ শেঠ জানান উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া ও মাটি কোকো চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। বিশেষ করে যাঁদের বাড়িতে কয়েকটি কলাগাছ রয়েছে তাঁরা সেই হালকা ছায়ায় অনায়াসেই কোকো গাছ রোপণ করতে পারেন বাড়িতে দুরত্ব বাজায় রেখে সুপারি গাছের মাঝে রোপন করা যাবে এই গাছ । এমনকি আপনার বাড়ির হালকা রোদ পাওয়া ছাদ বা ছোট্ট উঠোনেও একটি টবের মধ্যে এই গাছ সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে।
ধৈর্য ও পরিচর্যাতেই মিলবে আসল মিষ্টি ফল । তবে এই ক্ষেত্রে একটি মজাদার সত্যি মনে রাখা জরুরি, গাছ লাগালেই যে তার ডালে রেডিমেড চকলেট ঝুলব তা কিন্তু নয়! মাত্র ২০ টাকায় একটি কোকো চারা কিনে এনে মাটিতে বা টবে লাগানোর পর প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন ও প্রায় তিন বছরের ধৈর্য। তিন বছর পর গাছে লাল-হলুদ কোকো ফল আসবে। সেই ফল সংগ্রহ করে ভেতরের বীজ প্রক্রিয়াজাত করলেই তৈরি হবে চকলেটের মূল উপাদান।
হোম-বেকারদের জন্য নতুন সুযোগ বলাই যায়। যাঁরা বাড়িতে কেক, চকোলেট বা অন্যান্য পেস্ট্রি তৈরি করতে পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য এই কোকো গাছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
নিজের বাগানের কেমিক্যালমুক্ত কোকো দিয়ে তৈরি পেস্ট্রি বা চকোলেটের স্বাদ বাজারচলতি পণ্যের চেয়ে হবে অনেক বেশি প্রাকৃতিক ও অতুলনীয়।তাই আর দেরি কেন। আজই সংগ্রহ করুন একটি ছোট্ট চারা। তিন বছর পর হয়তো আপনার বাড়িতে আসা অতিথিদের চায়ের বদলে আপ্যায়ন করতে পারবেন “নিজের বাগানের খাঁটি চকলেটে।
Kolkata,West Bengal