Last Updated:
Bangladesh News: এদিকে, দ্য ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর এক শীর্ষ নেতার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শাহাবুদ্দিন ও শেখ হাসিনার মধ্যে কথিত টেলিফোন আলাপই রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগের একমাত্র কারণ ছিল না। ওই নেতার দাবি, বিশেষ করে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করার পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।
ঢাকা: ক’দিন আগেই বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রয়টার্স-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দাবি করেছিলেন, এই ডিসেম্বরেই দেশে ফিরবেন তিনি৷ অন্যদিকে, মহম্মদ ইউনুসের সময় থেকে তারেক রহমান কারও সঙ্গেই সম্পর্ক সুমধুর নয় রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিনের৷ শুক্রবার শারীরিক অবস্থার অবনতি এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালন চালিয়ে যেতে অক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে লেখা পদত্যাগপত্রে শাহাবুদ্দিন জানান, তিনি ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন এবং সংবিধান মেনে নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন।
২০২৪ সালের আগস্ট মাসের গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে তিনি সংবিধান অনুযায়ী নিজের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা পালন করেছেন। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টিও তিনি পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন।
রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন জানান, গত কয়েক মাসে তাঁর শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। তিনি জানান, তিনি অটোনমিক নিউরোপ্যাথি (Autonomic Neuropathy) নামের একটি স্নায়বিক রোগে ভুগছেন, যা তাঁর শারীরিক সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে প্রভাবিত করেছে।
মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন একজন প্রাক্তন বিচারপতি এবং বাংলাদেশের ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের একজন প্রবীণ যোদ্ধা। তিনি ২০২৩ সালের এপ্রিলে দেশের রাষ্ট্রপতি হন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (ICT-BD), যা পরে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা-কে দোষী সাব্যস্ত করে, ২০১০ সালে তাঁর সরকারের আমলেই গঠন করা হয়েছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগিতার অভিযোগে অভিযুক্তদের বিচার করা। তবে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল-সংক্রান্ত আইন সংশোধন করে। এর ফলে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আওয়ামী লীগের প্রাক্তন নেতা এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বিচারের ক্ষমতাও ট্রাইব্যুনালকে দেওয়া হয়।
এর আগে চলতি মাসে শেখ হাসিনা জানিয়েছিলেন, তিনি বছরের শেষের আগেই বাংলাদেশে ফিরতে চান। এর জবাবে বাংলাদেশ সরকার জানায়, তাঁর দেশে ফেরাকে স্বাগত জানানো হবে, তবে দেশে ফিরলেই তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।
