Last Updated:
Kaushiki Amavasya Tarapith: কৌশিকী অমাবস্যা ২০২৬-এ তারাপীঠে পুজো দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন? মাত্র ৫০০ টাকার মধ্যেই কীভাবে থাকা, খাওয়া এবং মায়ের দর্শনের পরিকল্পনা করা যায়, জানুন সহজ উপায়। কোথায় কম খরচে লজ মিলবে, কোথায় সুলভে প্রসাদ ও খাবার পাওয়া যায়, কীভাবে অযথা খরচ এড়িয়ে ভক্তিমূলক সফর সম্পূর্ণ করবেন এবং ভিড়ের সময় কী কী বিষয় মাথায় রাখবেন জানুন…
বীরভূম, সৌভিক রায়: সাধক বামদেবের অন্যতম তীর্থভূমি তারাপীঠের মাতারা মন্দির। প্রত্যেকদিন এই তারাপীঠ মন্দির দর্শনের জন্য হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন। তবে সবচেয়ে বেশি পর্যটকদের ঢল নামে কৌশিক আমাবস্যার পূর্ণ তিথিতে। কৌশিকী অমাবস্যা মানেই তারাপীঠে পুণ্যার্থীদের ঢল, এখনও অমাবস্যার আসতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। তবে এখন থেকেই বিভিন্ন হোটেলে বুকিং শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি বছর কৌশিকী অমাবস্যার তিথি শুরু হচ্ছে ২৩ ভাদ্র ইংরেজির ১০ সেপ্টেম্বর। এই দিনে কয়েক লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। কিন্তু অনেকে তারাপীঠে যেতে চান না কারণ খরচ। তাঁরা মনে করেন, তারাপীঠ গেলেই খরচ অনেক৷ অন্তত কয়েক হাজার টাকা।
তবে এই ধারণা ঠিক নয়৷ মাত্র ৫০০ টাকা খরচে আপনি যেতে পারেন তারাপীঠ। সেখানে মায়ের দর্শন করে আসতে পারেন৷ আর থাকা খাওয়াও সম্পূর্ণ ফ্রি-তে করতে পারবেন। তারাপীঠ পৌঁছনোর জন্য রামপুরহাট স্টেশন তো আছেই আবার তারাপীঠ রোড রেল স্টেশনও রয়েছে। অর্থাৎ আপনি ট্রেনে গেলে এই দুই স্টেশনেই নামতে পারবেন। হাওড়া বা দক্ষিণবঙ্গের যে কোনও জেলা থেকে গেলে এই দুই স্টেশনে নামা যাবে। আবার যেতে পারেন বাসেও। কলকাতা থেকে গেলে আপনি ধর্মতলা থেকে বাস পাবেন। দক্ষিণবঙ্গের যে কোনও জেলা থেকে আপনি বাস পেয়ে যাবেন৷
ট্রেনের ভাড়া বেশ কম। যদি আপনি হাওড়া বা শিয়ালদহ থেকে রামপুরহাট বা তারাপীঠ যান তাহলে ভাড়া পড়বে মাথাপিছু ৮০ থেকে ১০০ টাকা৷ অর্থাৎ যাওয়া আসার খরচ মাত্র ২০০ টাকা৷ আবার মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, দুই ২৪ পরগনা ইত্যাদি জেলা থেকে গেলে আপনাকে আরও কম ভাড়া দিতে হবে। আবার যদি আপনি বাসে যান তাহলে ধর্মতলা থেকে বাস ভাড়া দিতে হবে মাথাপিছু ২৩০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে বাসে পৌঁছতে ট্রেনের থেকে সময় বেশি লাগবে৷ তাই ট্রেনে যাওয়া সাশ্রয়ী হবে। রামপুরহাট তো পৌঁছলেন। সেখান থেকে আপনাকে পৌঁছতে হবে তারাপীঠ মন্দিরে। স্টেশন থেকে মন্দিরের দূরত্ব মাত্র ৮ কিলোমিটার৷ অটো, ট্রেকার, বিক্রম গাড়িতেই সটান পৌঁছে যেতে পারেন মন্দিরে৷
তারাপীঠে হোটেল অনেক। প্রতি রুমের ভাড়া ৫০০ থেকে ৫ হাজার টাকা। আপনার যেমন বাজেট সেভাবে হোটেল পছন্দ করতে পারবেন। তবে বাজেট অল্প থাকলে কম পয়সায় থাকার ব্যবস্থাও রয়েছে। তারাপীঠে রয়েছে ভারত সেবাশ্রম সংঘ, সেখানে মাত্র ৫০ টাকা দিলেই আপনি রাত্রিবাস করতে পারেন। সুতরাং আপনাকে বিশাল খরচ করে হোটেলে থাকতে হবে না। অপশন আরও আছে। তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বীরচন্দ্রপুরকে নতুনভাবে সাজিয়েছে। বীরচন্দ্রপুরে নিত্যানন্দ মহাপ্রভুর জন্মস্থান। সেখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী নিতাই বাড়ি, বাঁকারায় মন্দির, জগন্নাথ মন্দির-সহ বিভিন্ন মন্দির, সেখানেও অতিথিশালা রয়েছে। স্বল্প খরচে সেই অতিথিশালায় থাকতে পারবেন।
অপশন আছে আরও। তারাপীঠের চারপাশে রয়েছে একাধিক গ্রাম। তার মধ্যে অন্যতম হল আটলা। এই গ্রামের দূরত্ব তারাপীঠ থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার। তাহলে আর দেরি কেন! এই কৌশিকী অমাবস্যাতেই ঘুরে আসুন তারাপীঠ। তবে এই কম বাজেটে থাকতে গেলে একটু আগে থেকেই এই সমস্ত থাকার জায়গায় বুকিং করে রাখুন। এই প্রসঙ্গে বলে রাখা দরকার, যদি আপনি অফ সিজনে যান তাহলে খুব সস্তাতেই হোটেল পেয়ে যাবেন তারাপীঠে।
Birbhum,West Bengal