লোকসভায় সোমবারই বিলটি উত্থাপন এবং পাস করানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যদিও তা বিলটি আনুষ্ঠানিকভাবে উপস্থাপনের ওপর নির্ভর করবে।
সাংসদদের মধ্যে বিতরণ করা প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, সরকারি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস বা অন্য কোনও অসাধু উপায়ে জড়িত প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের ৫ থেকে ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানার মুখে পড়তে হবে।
শুধু তাই নয়, সংগঠিতভাবে পরীক্ষা জালিয়াতির ক্ষেত্রে আরও কঠোর শাস্তির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সে ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৭ বছরের কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তদন্ত শেষ করতে হবে ২ মাসে, গড়তে হবে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত
বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার লক্ষ্যেই বিলে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত তদন্ত সর্বোচ্চ দুই মাসের মধ্যে শেষ করতে হবে। পাশাপাশি, প্রতিটি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন করতে হবে, যেখানে চার্জশিট জমা পড়ার তিন মাসের মধ্যেই বিচার শেষ করার নির্দেশ থাকবে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঘোষণা করেছিলেন যে, প্রশ্নফাঁস রুখতে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র আরও কঠোর আইন আনবে। সেই ঘোষণার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সংশোধনী বিল আনা হচ্ছে।
প্রশ্নফাঁস বিরোধী বিলের পাশাপাশি সোমবার লোকসভায় Supreme Court (Number of Judges) Amendment Bill, 2026-ও উত্থাপিত হবে। এই বিলের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতির অনুমোদিত সংখ্যা ৩৪ থেকে বাড়িয়ে ৩৮ করার অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করার প্রস্তাব রয়েছে।
বর্ষাকালীন অধিবেশন ১৩ আগস্ট শেষ হওয়ার আগে এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করা না হলে তা অকার্যকর হয়ে যাবে।
এছাড়াও সোমবারের কার্যসূচিতে রয়েছে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটির রিপোর্ট পেশ, মন্ত্রীদের বিবৃতি এবং রুল ৩৭৭-এর অধীনে বিভিন্ন বিষয় উত্থাপন।
টানা এক সপ্তাহের রাজনৈতিক সংঘাতের পর সোমবার সংসদের অধিবেশন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা হতে চলেছে। প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইন পাস করিয়ে সরকার তার আইন প্রণয়নের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে কি না, সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।