সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, মৃতার নাম মনীষা। অভিযুক্ত স্বামী হানিফ মনসুরি। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের মহোবা জেলার পানওয়ারি থানার অন্তর্গত বিজরারি গ্রামে।
এই বিভীষিকাময় ঘটনার সময় বাড়িতেই ছিল দম্পতির ৫ বছরের ছেলে ও ২ বছরের মেয়ে। শিশুদের সামনেই মাকে কুপিয়ে খুন করে অভিযুক্ত।
ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে স্বয়ং হানিফই পুলিশে ফোন করে এবং ভুয়ো গল্প সাজিয়ে ঘটনাকে অন্যভাবে দেখানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাঁচ বছরের শিশুপুত্রের কাছ থেকে ঘটনার প্রত্যক্ষ বর্ণনা পায়।
এরপর পানওয়ারি থানার স্টেশন হাউস অফিসার (SHO) প্রবীণ কুমার অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং শেষ পর্যন্ত তাকে গ্রেফতার করা হয়।
মৃতার পরিবারের অভিযোগ, হানিফ অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ স্বভাবের ছিল এবং তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মনীষার উপর শারীরিক নির্যাতন চালাত।
মনীষার ভাই নাসিম মনসুরি জানান, অভিযুক্ত একাধিকবার তাঁর বোনকে বাড়ি থেকেও বের করে দিয়েছিল। সেই সময় পুলিশি হস্তক্ষেপও করতে হয়েছিল। কিন্তু সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে মনীষা বারবার স্বামীর বাড়িতে ফিরে যেতেন।
নাসিম বলেন, “মদ্যপ অবস্থায় কাস্তে দিয়ে আমার বোনকে নৃশংসভাবে খুন করেছে। ২০২১ সালে ওদের বিয়ে হয়েছিল। আমার বোনের দুটি ছোট সন্তান রয়েছে এবং সে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল। অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই।”
অভিযুক্তের ভগ্নিপতি শাকির জানান, পরিবার বহুবার হানিফকে বোঝানোর চেষ্টা করেছিল। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। তিনি দাবি করেন, কাস্তে দিয়ে শরীর, মাথা এবং হাতে একাধিকবার কোপ মেরে মনীষাকে হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্তের বাবাও ছেলের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, চার বছর আগে ছেলে তাঁকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছিল। তিনি বলেন, “আমার ছেলে ভয়ঙ্কর অপরাধ করেছে। ওর কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত, প্রয়োজনে মৃত্যুদণ্ডও। নাতি-নাতনিদের আমি নিজের কাছে রেখে মানুষ করব।”
কুলপাহাড় সার্কেলের পুলিশ আধিকারিক অনিরুদ্ধ সিং জানিয়েছেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
Husband Kills Pregnant Wife: ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে কাস্তে দিয়ে খুন! মদ্যপ স্বামীর নৃশংসতার সাক্ষী ২ সন্তান, রক্তাক্ত ঘটনায় শিউরে উঠছে দেশ, বাবাকে ধরিয়ে দিল ৫ বছরের ছেলে