অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA) জানিয়েছে, চরাইদেও, গোলাঘাট, জোরহাট, নগাঁও এবং শিবসাগর—এই পাঁচটি জেলায় ৫ লক্ষ ২৪ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
রবিবার গভীর রাতে প্রকাশিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় চরাইদেও জেলায় বন্যার জলে ডুবে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে বন্যাজনিত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলির মধ্যে চরাইদেও সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। সেখানে প্রায় ১.৯ লক্ষ মানুষ বন্যার কবলে রয়েছেন। এর পরেই রয়েছে শিবসাগর, যেখানে ১.৫ লক্ষেরও বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত। আর যোরহাটে বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১.৪ লক্ষ।
তবে শনিবারের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। শনিবার ছয়টি জেলায় প্রায় ৬.৫৫ লক্ষ মানুষ বন্যার প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন।
অসম রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (ASDMA)-এর মতে, চারটি জেলায় বর্তমানে ৩৫৪টি ত্রাণ শিবির ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র চালু রয়েছে। সেখানে ৩৭,৭২৪ জন বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
বুলেটিনে আরও জানানো হয়েছে, উপর অসমের বিভিন্ন এলাকায় ভারতীয় সেনাবাহিনী, জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (NDRF), রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী (SDRF), অগ্নিনির্বাপণ ও জরুরি পরিষেবা এবং পুলিশ যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেছে।
বর্তমানে রাজ্যের ৭৬৩টি গ্রাম এখনও বন্যার জলের তলায় রয়েছে। এছাড়া ৪৮,৭৪২.০৯ হেক্টর কৃষিজমির ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। এএসডিএমএ জানিয়েছে, একাধিক জেলায় বাঁধ, রাস্তা, সেতু এবং অন্যান্য সরকারি পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, নুমালিগড়ে ধনশিরি নদীর জল এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া বুলেটিনে বলা হয়েছে, সারা অসমে বন্যার কারণে ৮৮,২৪০টি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।