‘পাকিস্তান প্রকল্পের আয়ু শেষের পথে’:
মীর ইয়ার বালোচ এক্স (আগের ট্যুইটার)-এ করা একটি পোস্টে লিখেছেন, বালোচিস্তানের ইতিহাস ৯,০০০ বছরের পুরনো। এর বিপরীতে, পাকিস্তান মাত্র ৭৮ বছরের একটি কৃত্রিম বাফার জোন, যা ব্রিটিশরা তৈরি করেছিল এবং যা ভাড়াটে সামরিক কাঠামোর মাধ্যমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। তাঁর দাবি, প্রতিটি রাজনৈতিক প্রকল্পেরই একটি নির্দিষ্ট আয়ু থাকে এবং শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি আসে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে, ‘পাকিস্তান প্রকল্প’ এখন তার শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে।
নিজের পোস্টে তিনি আরও দাবি করেছেন যে, বালোচিস্তান প্রজাতন্ত্রে সাধারণ বালোচ জনগণ পাকিস্তানের ‘বহিরাগত সেনাবাহিনীর’ বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণভাবে প্রতিবাদ করছেন। একই সঙ্গে তাঁরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনী, তাদের গোয়েন্দা সংস্থা এবং শোষণমূলক প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত সমস্ত সরকারি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে বালোচিস্তান ছেড়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন।
‘শোষণে অতিষ্ঠ বালোচ জনগণ’:
মীর ইয়ার বালোচ আরও লিখেছেন, বালোচিস্তানের মানুষ দখলদারিত্ব এবং অর্থনৈতিক শোষণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তাঁর দাবি, বালোচ জাতি নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারা নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেরাই পরিচালনা করতে এবং নিজেদের উন্নয়ন নীতি নিজেরাই প্রণয়ন করতে চায়। তাঁর মতে, নিজেদের ভাগ্য গড়ার সক্ষমতা বালোচদের রয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেছেন, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বর্তমানে বালোচিস্তানে ব্যাপক জনবিক্ষোভের মুখোমুখি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, ইতিহাসে দেখা গিয়েছে, যখন কোনও বিদেশি সেনাবাহিনী স্থানীয় জনগণের ধারাবাহিক বিরোধিতার মুখে পড়ে, তখন বিচক্ষণ দেশগুলি জোরপূর্বক দখল বজায় রাখার পরিবর্তে সেখান থেকে সরে আসাকেই বেশি উপযুক্ত মনে করে।
‘রাইফেল-তোপে জয় নির্ধারিত হয় না’:
মীর ইয়ার বালোচ আরও দাবি করেছেন, বর্তমানে ইসলামাবাদের সেনাবাহিনী যুক্তরাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) এবং চিনের আর্থিক সহায়তার জোরে বালোচ জনগণের উপর বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে। তবে তাঁর বক্তব্য, তাদের মনে রাখা উচিত যে জয় কখনও রাইফেল, কামান বা যুদ্ধবিমান দিয়ে নির্ধারিত হয় না। প্রকৃত বিজয় সেই দেশগুলিরই হয়, যাদের শিকড় নিজেদের মাতৃভূমিতে গভীরভাবে প্রোথিত এবং যারা নিজেদের জনগণের সমর্থনের উপর দাঁড়িয়ে শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও দাবি করেছেন, বেলুচ জাতির শিকড় বালোচিস্তানের মাটিতে গভীরভাবে প্রোথিত এবং তারা নিজেদের জনগণের শক্তি ও সমর্থনের ভিত্তিতেই গড়ে উঠেছে। এর বিপরীতে, তাঁর অভিযোগ, পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাসে কয়েক হাজার টাকা বেতনের বিনিময়ে বালোচিস্তানে মোতায়েন রয়েছেন এবং সেখানে তারা বালোচ জনগণের গণহত্যায় অংশ নিচ্ছেন।