Last Updated:
NISAR Satellite News: সরকারি হিসাবে, এই বিপর্যয়ে ৫,০০০-রও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৬,৭০০-রও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। রাজধানী কারাকাস এবং লা গুয়াইরা ছিল সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলির মধ্যে।
ভেনেজুয়েলা: জুন মাসে ভেনেজুয়েলায় পরপর হওয়া দু’টি শক্তিশালী ভূমিকম্পে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয় এবং অসংখ্য বাড়িঘর ও অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে যায়। তবে এই বিপর্যয় শুধু প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বদলে দিয়েছে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠের অবস্থানও। এবার NASA এবং ISRO-র যৌথ মিশন NISAR (NASA-ISRO Synthetic Aperture Radar) সেই বিপর্যয়ের এমন কিছু ছবি ও তথ্য প্রকাশ করেছে, যা দেখে বিজ্ঞানীরাও বিস্মিত।
তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর কিছু এলাকায় প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার (প্রায় ২ ফুট) পর্যন্ত সরে গিয়েছে মাটি। বড় কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর প্রথমবারের মতো NISAR তাদের Emergency Response Observation System ব্যবহার করে দ্রুত রাডার তথ্য সংগ্রহ করেছে।
গত ২৪ জুন, উত্তর ভেনেজুয়েলায় প্রথমে ৭.২ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। মাত্র ৩৯ সেকেন্ড পরে আবার ৭.৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্প হয়। এই দুই ভূমিকম্পে গোটা ভেনেজুয়েলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের সৃষ্টি হয়।
এটি NISAR মিশনের প্রথম বড় দুর্যোগ-পরবর্তী জরুরি পর্যবেক্ষণ অভিযান। ভূমিকম্পের পরপরই উপগ্রহটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার রাডার চিত্র সংগ্রহ শুরু করে। বিজ্ঞানীরা ভূমিকম্পের আগে ও পরে তোলা রাডার চিত্রের তুলনা করে নির্ণয় করেন, কোথায় এবং কতটা পরিবর্তন হয়েছে।এর জন্য ব্যবহার করা হয় InSAR (Interferometric Synthetic Aperture Radar) প্রযুক্তি, যা ভূ-পৃষ্ঠের মিলিমিটার স্তরের পরিবর্তনও শনাক্ত করতে সক্ষম। বিভিন্ন সময়ে তোলা রাডার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, একাধিক এলাকায় মাটি তার আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে সরে গিয়েছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, এই ভূমিকম্পের কারণ ছিল স্ট্রাইক-স্লিপ ফল্ট (Strike-Slip Fault)। এই ধরনের ভূমিকম্পে দুটি টেকটোনিক প্লেট একে অপরের উপর বা নিচে সরে যায় না, বরং পাশাপাশি বিপরীত দিকে সরে যায়। এই ঘটনায় ক্যারিবিয়ান টেকটোনিক প্লেট এবং দক্ষিণ আমেরিকান টেকটোনিক প্লেটের মধ্যে সেই ধরনের সঞ্চালন ঘটেছিল। সবচেয়ে বেশি ভূমি সরে যাওয়ার ঘটনা ধরা পড়েছে রাজধানী কারাকাসের উত্তরে অবস্থিত বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায়, যেখানে মাটি প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত স্থানচ্যুত হয়েছে।
NISAR-এর সংগৃহীত তথ্য এখন USGS (United States Geological Survey)-সহ বিশ্বের বিভিন্ন ভূতাত্ত্বিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা বুঝতে পারবেন, কোন ফল্ট লাইনে কতটা চাপ (stress) এখনও জমে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আফটারশক বা নতুন ভূমিকম্পের ঝুঁকি কোন এলাকায় বেশি হতে পারে। এই তথ্য ভবিষ্যতের দুর্যোগ মোকাবিলা ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে সাহায্য করবে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
Jul 27, 2026 12:42 PM IST
