NEET-সহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগে হওয়া ছাত্র আন্দোলনে পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগ নিয়ে দায়ের হওয়া একগুচ্ছ মামলার শুনানিতে গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ছাত্রছাত্রীদের অধিকার সুরক্ষা এবং ঘটনার প্রমাণ সংরক্ষণের লক্ষ্যে একাধিক নির্দেশ জারি করেছে।
আদালতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে যেসব ছাত্রছাত্রীকে গ্রেফতার বা আটক করা হয়েছে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক পূর্ব রেকর্ড (ক্রিমিনাল অ্যান্টিসিডেন্ট) নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। পাশাপাশি, তাঁদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে আপাতত কোনও জোরপূর্বক (Coercive) পদক্ষেপ নেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
দিল্লি-সহ একাধিক রাজ্যে ছাত্র-ছাত্রীদের উপর পুলিশি অত্যাচারের অভিযোগের তদন্তে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (SIT) গঠনের ইঙ্গিত দিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে স্বতন্ত্র তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
একইসঙ্গে সর্বোচ্চ আদালত সমস্ত রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছে, যে সমস্ত ছাত্র বিক্ষোভকারীর কোনও পূর্ববর্তী ক্রিমিনাল ব্যাকগ্রাউন্ড নেই, তাঁদের অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। এই মামলায় দিল্লি, পশ্চিমবঙ্গ, অসম, বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র এবং কেরল সরকারের বক্তব্যও তলব করেছে সুপ্রিম কোর্ট।
শুনানিতে প্রধান বিচারপতি পর্যবেক্ষণ করেন, “প্রচলিত ধারায় এখন আর ঘটনা ঘটছে না।” তিনি আন্দোলন নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে একটি ইউনিফর্ম প্রোটোকল (Uniform Protocol) তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সহযোগিতা করার আবেদন জানান প্রধান বিচারপতি।
এদিনও প্রধান বিচারপতি বলেন, “গণতন্ত্রে আন্দোলন স্বাভাবিক ঘটনা।” তাঁর মতে, আন্দোলন এবং পুলিশি পদক্ষেপ সংক্রান্ত একটি সার্বজনীন প্রোটোকল তৈরি হয়ে গেলে, “যাঁরাই অতিসক্রিয়তা বা অন্যায় করেছেন, আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছেন এবং অত্যাচার চালিয়েছেন, তাঁদের সকলকেই আইনের আওতায় আনতে সুবিধা হবে।”
পাশাপাশি, শুনানিতে মহিলা, আইনজীবী এবং সাংবাদিকদের উপর হামলার অভিযোগের আপাতদৃষ্টিতে বাস্তবতা রয়েছে বলেও স্বীকার করেন প্রধান বিচারপতি। এই ঘটনাগুলির প্রেক্ষিতে স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হতে পারে বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।