৩৮ বছর বয়সি মৃত ওই যুবকের নাম অলউইন প্রকাশ কুন্দর৷ তিনি কর্ণাটকের উদুপি জেলার বাসিন্দা৷ শারজা বিমানবন্দরে চাকরি করতেন অলউইন৷ নিজের স্ত্রী এবং ছেলের সঙ্গে শারজাতেই থাকতেন তিনি৷
মৃতের পরিবারের সন্দেহ, সম্ভবত গত জুলাই মাসেই অলউইনকে খুন করা হয়েছে৷ কারণ প্রায় দু মাস ধরে পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না ওই যুবকের৷ শেষ পর্যন্ত শারজা থেকে ওমানের দিকে যাওয়ার রাস্তার ধারে পার্ক করে রাখা একটি গাড়ির ভিতর থেকে দুটি ব্যাগ উদ্ধার করে পুলিশ৷ মৃতের ভাই অনিল প্রশান্ত কুন্দরের দাবি সেই দুটি ব্যাগের ভিতরেই অলউইনের দেহ ৯ টুকরো করে কেটে রাখা ছিল৷
যদিও কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে অলউইনকে এমন নৃশংস ভাবে হত্যা করা হল, সে বিষয়ে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে তাঁর পরিবার৷
মৃতের ভাই অনিল জানিয়েছেন, গত ২০ জুলাই তিনি ফোনে অলউইনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেন৷ কিন্তু ফোন ধরেননি অলউইন৷ তার বদলে অলউইনের মোবাইল থেকেই একটি মেসেজ আসে তাঁর ভাইয়ের কাছে৷ সেই মেসেজে অলউইনের নাম করে লেখা ছিল, তিনি ভাল আছেন৷
এই মেসেজ পেয়েই প্রথমে সন্দেহ হয় অনিলের৷ কারণ অলউইন সবসময়ই ভয়েস মেসেজে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতেন৷ এক সপ্তাহ পর ফের অলউইনকে ফোন করা হলে তখনও ফোন ধরেননি তিনি৷ এতেই পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ বৃদ্ধি পায়৷
এর পরই শারজায় বসবাসকারী অলউইনের এক প্রাক্তন সহপাঠী মনোহরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের দাদার খোঁজ নিতে বলেন অনিল৷ শারজায় নিয়োগকারী সংস্থার দেওয়া যে ফ্ল্যাটে অলউইন থাকতেন, সেখানে যান মনোহর৷ কিন্তু সেখানকার নিরাপত্তারক্ষী মনোহরকে জানান, অলউইন পরিবারকে নিয়ে ভারতে গিয়েছন৷ প্রাথমিক ভাবে অলউইনের সংস্থার এইচআর বিভাগ থেকেও অলউইনের পরিবারকে একই কথা জানানো হয়৷
যদিও অনিল জোরের সঙ্গে জানান তাঁর ভাই ভারতে আসেননি৷ অলউইন যে সংস্থায় চাকরি করতেন, তাঁদেরকে দাদার সম্পর্কে খোঁজ নিতেও অনুরোধ করেন অনিল৷ এর পরই পুলিশ খোঁজখবর করে জানায়, অলউইনের পাসপোর্টের তথ্য অনুযায়ী তিনি শারজা ছেড়ে বেরোননি৷ এর পরই নিখোঁজ ডায়েরি করে পুলিশ৷ এর পরই তল্লাশিতে ওমানগামী রাস্তার ধারে দাঁড়ানো একটি গাড়ি থেকে অলউইনের দেহ উদ্ধার হয়৷ ময়নাতদন্তের পর সোমবার অলউইনের দেহ হাতে পায় তাঁর পরিবার৷ দাদার মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে উদুপি পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন তাঁর ভাই৷
অলউইনের স্ত্রী টিনা কুন্দরও উদুপিরই বাসিন্দা৷ তিনি শারজার একটি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন৷ শারজার স্কুলেই দশম শ্রেণিতে পড়ত ওই দম্পতির ছেলে৷ কিন্তু অলউইনের মৃত্যুর পর থেকেই তাঁর স্ত্রী এবং ছেলেরও কোনও খোঁজ নেই৷ সম্ভবত তাঁরা শারজা থেকে ভারতে ফিরে এসেছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে৷ অলউইন নামে ওই যুবকের হত্যার ঘটনায়, তাঁর স্ত্রীর কোনও ভূমিকা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ৷ যদিও মৃতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, অলউইন এবং তাঁর স্ত্রীর মধ্যে কোনওরকম গন্ডগোলের খবর তাঁদের কানে আসেনি৷
ইন্ডিয়া ডট কম-এ অনিল দাবি করেছে, যে বহুতলে তাঁর দাদা থাকতেন সেখান থেকে এক মহিলা এবং দু জব পুরুষকে বেরোতে দেখা গিয়েছে৷ তবে তাঁর বৌদি টিনা ভারতে ফিরেছেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত নন অনিল৷