এক সাংবাদিক বৈঠকে রাহুল গান্ধি আরও স্পষ্ট করে জানান, বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি বিজেপির কাছে কোনওভাবেই ক্ষমা চাইবেন না। এ নিয়ে বিজেপির ধারাবাহিক আক্রমণের মধ্যেও তিনি নিজের অবস্থানে অনড় থাকবেন বলেই জানান।
পুলিশি অভিযানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে রাহুল বলেন, “দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন বাহিনীর প্রতিটি পদক্ষেপই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়”। তাঁর দাবি, তিনি সংসদে থাকাকালীন নিজে অমিত শাহকে পুলিশের সঙ্গে ফোনে কথা বলতে দেখেছেন। রাহুলের অভিযোগ, পরে শাহ আরও একজন মন্ত্রীকে দিয়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করান, যা প্রমাণ করে যে গোটা ঘটনার বিষয়ে তিনি সম্পূর্ণ অবগত ছিলেন।
রাহুল বলেন, “দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। হয় অমিত শাহ জানতেন না কী ঘটছে, সেক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য। অথবা তিনিই এই অভিযানের নির্দেশ দিয়েছেন, সেক্ষেত্রে তিনি সরাসরি দায়ী। তৃতীয় কোনও সম্ভাবনা নেই। যে কোনও অবস্থাতেই তাঁর পদে থাকার অধিকার নেই।” তাঁর আরও অভিযোগ, অভিযানের সময় যেসব পড়ুয়াদের মারধর করা হয়েছে, অপমান করা হয়েছে এবং পেলেট গান দিয়ে গুলি চালানো হয়েছে, তার সম্পূর্ণ দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর।
দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
রাহুল গান্ধীর দাবি, দিল্লি পুলিশ এবং র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ), যারা এই অভিযানে অংশ নিয়েছিল বলে অভিযোগ, উভয়ই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। তিনি বলেন, “দিল্লিতে হরিয়ানা পুলিশ নেই, উত্তরপ্রদেশ পুলিশও নেই। এখানে শুধু দিল্লি পুলিশ এবং আরএএফ কাজ করে।”
রাহুল জানান, গত ২৫ জুলাই তিনি অমিত শাহকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে ‘পেলেট গান-সহ প্রাণঘাতী শক্তি’ ব্যবহারের অনুমোদন তিনি দিয়েছিলেন কি না। কিন্তু সেই চিঠির কোনও উত্তর তো দূরের কথা, প্রাপ্তিস্বীকারও পাননি বলে দাবি করেন তিনি। এছাড়াও সাধারণ পোশাকে থাকা কিছু ব্যক্তিকে লাঠি হাতে পড়ুয়াদের মারতে দেখা গিয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাহুল প্রশ্ন করেন, তাঁরা কি পুলিশের সদস্য ছিলেন, নাকি স্বেচ্ছাসেবক?
‘পড়ুয়ারা বিচার পাবেই’
রাহুল গান্ধী বলেন, “অভিযানে আক্রান্ত প্রত্যেক পড়ুয়ার জন্য বিরোধীরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে। তাঁর দাবি, ঘটনার ছবি ও ভিডিও বিরোধীদের হাতে রয়েছে এবং অভিযানে জড়িত পুলিশকর্মীদের পরিচয়ও তাঁদের জানা”। তিনি বলেন, “আপনারা হয়তো ভাবছেন খুব চালাকির সঙ্গে সব কিছু সামলে ফেলবেন। কিন্তু জবাবদিহি করতেই হবে। পড়ুয়াদের কাছে এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
রাহুল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে দাবি জানান, অমিত শাহকে অবিলম্বে বরখাস্ত করে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে একটি স্বাধীন উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে ঘটনার তদন্ত করানো হোক। তিনি বলেন, “আমরা অস্বাভাবিক কিছু চাইছি না। অন্তত আপনারা যা করেছেন, তার দায়িত্ব নেওয়ার মতো নৈতিকতা দেখান।”
রাহুলকে কটাক্ষ জিতেন্দ্র সিংয়ের
এদিকে রাহুল গান্ধীর বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং কটাক্ষ করে বলেন, সংসদে এমন ভাষা ব্যবহার করা যায় না, কারণ তা অসংসদীয়। তাঁর কথায়, “একজন ‘ইডিয়ট’ও সংসদের ভিতরে নিজেকে ‘ইডিয়ট’ বলতে পারে না, কারণ এটি অসংসদীয় শব্দ।” এর আগে বুধবারই রাহুল গান্ধী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য তিনি বিজেপির কাছে কখনও ক্ষমা চাইবেন না এবং এই ইস্যুতে নিজের অবস্থান থেকে একচুলও সরবেন না।