Last Updated:
Money Making Tips: চেনা কাজের বাইরে গিয়ে নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে কীভাবে স্থায়ী উপার্জনের মুখ দেখা যায়? দাঁতনের স্নাতক তরুণী স্মৃতিলেখার এই সহজ ও কার্যকরী কৌশল আপনার ঘরের কোণ থেকেই আয়ের নতুন পথ খুলে দিতে পারে।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে এখন মানুষের রুচি বেশ বদলাচ্ছে। চিরাচরিত চেনা ছকের বাইরে গিয়ে হাতে তৈরি বিভিন্ন জিনিস, যেমন লিপন আর্ট বা সুন্দর ডিজাইনের নানা হ্যান্ডিক্র্যাফটের কদর বর্তমান দিনে বেশ বাড়ছে। আর উপহারের মধ্যে যদি থাকে শিল্পের ছোঁয়া, তবে তো আর কোনও কথাই নেই। বর্তমান যুগের গ্রাহকদের এই চাহিদাকেই কাজে লাগিয়েছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতন ২ ব্লকের কেদার এলাকার বাসিন্দা স্মৃতিলেখা আচার্য্য। ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতক এই তরুণী নিজের শিল্পসত্তাকে কাজে লাগিয়ে আজ পুরোপুরি স্বনির্ভর। তাঁর এই অভিনব উদ্যোগ এবং সৃষ্টিশীল ভাবনাচিন্তা দেখে অবাক হচ্ছেন এলাকার অনেকেই।
আজকাল ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে বয়স্ক মানুষ, সকলেরই হাতে তৈরি জিনিসের প্রতি একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। গ্রাহকদের সেই চাহিদার কথা মাথায় রেখেই স্মৃতিলেখা নিজের বাড়িতে বসে তৈরি করছেন নানা ধরনের সুন্দর সুন্দর জিনিস। ছোট্ট মিনি ক্যানভাস থেকে শুরু করে বড় ক্যানভাস—সব জায়গাতেই তাঁর তুলির টান মুগ্ধ করার মতো। সাদা কাগজের উপর নিখুঁত পোট্রেট থেকে শুরু করে কাঁচ বা অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তৈরি হচ্ছে চোখধাঁধানো সব শিল্পকর্ম। এছাড়া ম্যুরাল আর্ট থেকে শুরু করে ক্লে পেন্টিং বা মাটির কাজ, সব কিছুই নিজের হাতে তৈরি করেন এই তরুণী।
ছোটবেলায় দাদার কাছেই ছবি আঁকার হাতেখড়ি হয়েছিল স্মৃতিলেখার। কলেজ থেকে স্নাতক হওয়ার পর বর্তমানে পেশাগতভাবে গৃহশিক্ষকতার কাজ শুরু করলেও, নিজের অবসর সময়টাকে একেবারেই নষ্ট হতে দেননি তিনি। নিজের শখকেই আয়ের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছেন। গ্রাহকদের পছন্দ মতো কাস্টমাইজড ছবি বা উপহার সামগ্রী তৈরি করে দেন স্মৃতিলেখা। পাশাপাশি ক্লে বা মাটি দিয়ে তৈরি করছেন সুন্দর সব হ্যান্ডমেড জুয়েলারি। আকার ও ধরন অনুযায়ী এই প্রতিটি জিনিসের নির্দিষ্ট দাম ধার্য করা হয়েছে। অনলাইনের পাশাপাশি অফলাইনেও তাঁর তৈরি এই জিনিসগুলির বাজারে বেশ ভাল চাহিদা রয়েছে।
বাজারে বর্তমানে হাতে আঁকা ছবি বা হাতে তৈরি জিনিসের কদর যথেষ্টই। আর সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আর্থিক লাভের মুখ দেখছেন তিনি। এই কাজ থেকে মাসে তাঁর বেশ রোজগারও হচ্ছে। চেনা ছক ভেঙে পড়াশোনার পাশাপাশি নিজের প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে আয়ের এই নতুন পথ বেছে নেওয়ায় তাঁকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন প্রত্যেকে। অবসরে ঘরে বসে রং-তুলি আর মাটির জাদুতে শুধু যে তিনি নিজেই স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তা নয়, বরং সমাজের আরও অনেক যুবক-যুবতীর কাছে স্বনির্ভর হওয়ার এক নতুন দিশা তুলে ধরেছেন দাঁতনের এই ছাত্রী।
Paschim Medinipur,West Bengal
Jul 30, 2026 12:26 PM IST