Last Updated:
PM Surya Ghar: প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনায় আবেদনকারীদের জন্য রয়েছে সরকারি ভর্তুকি-সহ একাধিক সুবিধা। ছাদে সোলার প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুতের বিল কমানোর সুযোগের পাশাপাশি মিলবে আর্থিক সহায়তাও। আবেদন পদ্ধতি, যোগ্যতা ও প্রকল্পের সম্পূর্ণ তথ্য এক নজরে জেনে নিন।
হিঙ্গলগঞ্জ, জুলফিকার মোল্যা: সুন্দরবনে বাড়ছে সৌরশক্তির ব্যবহার, প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনায় বাড়ছে সোলার বসানোর আগ্রহ। বিদ্যুৎ সাশ্রয়, পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ খরচ কমানোর লক্ষ্যেই কেন্দ্র সরকার প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনা চালু করেছে। এই প্রকল্পের আওতায় বাড়ির ছাদে গ্রিড-সংযুক্ত সোলার প্যানেল বসানোর জন্য কেন্দ্রীয় ভর্তুকির ব্যবস্থা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিজের বাড়িতে ব্যবহার করার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহেরও সুযোগ রয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকাতেও এই প্রকল্প নিয়ে মানুষের আগ্রহ ক্রমশ বাড়ছে।
বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ-সহ সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েক মাসে সোলার প্যানেল বসানোর বিষয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যুৎ বিল কমানো, দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয় এবং নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহারের সুবিধার কথা বিবেচনা করেই অনেক পরিবার এই প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নিচ্ছেন। স্থানীয় বিদ্যুৎ দফতরেও এ বিষয়ে তথ্য জানতে মানুষের আনাগোনা বেড়েছে। এই প্রকল্পে আবেদন করতে হলে কেন্দ্র সরকারের নির্ধারিত জাতীয় পোর্টাল [https://pmsuryaghar.gov.in-এ অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারীকে প্রথমে বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা নাম সিলেক্ট করে গ্রাহক নম্বর-সহ প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। আবেদন অনুমোদনের পর সোলার প্যানেল স্থাপন, পরিদর্শন এবং নেট মিটার সংযোগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে নির্ধারিত ভর্তুকির অর্থ আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বসিরহাটে বর্তমানে একাধিক সংস্থা সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ করছে। এর মধ্যে বিশ্বাস ব্যাটারি অ্যান্ড সোলার সলিউশন, অদ্বিক সোলার, মিস্ত্রী এন্টারপ্রাইজ, F.S এন্টারপ্রাইজ, সুমন ব্যাটারি অ্যান্ড সোলার -সহ আরও কয়েকটি সংস্থা গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সোলার স্থাপনের পরিষেবা দিচ্ছে। তবে গ্রাহকদের যে কোনও সংস্থার মাধ্যমে কাজ শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট সংস্থার নথিপত্র, অভিজ্ঞতা এবং প্রকল্পের শর্তাবলি যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের মতো প্রত্যন্ত ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়লে একদিকে যেমন বিদ্যুৎ বিল কমবে, তেমনই পরিবেশবান্ধব শক্তির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডের উপর চাপ কমানো এবং কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সরকারের লক্ষ্য, দেশের আরও বেশি সংখ্যক পরিবারকে নবায়নযোগ্য শক্তির আওতায় আনা। সেই লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী সূর্য ঘর যোজনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভর্তুকির সুবিধা দিয়ে সোলার ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। সুন্দরবন এলাকায়ও সচেতনতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আগামী দিনে এই প্রকল্পে আবেদনকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
Kolkata,West Bengal