ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প আমেরিকার সেনাবাহিনীকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। এর উদ্দেশ্য, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা এবং যুদ্ধবিরতির শর্ত মেনে নিতে চাপ সৃষ্টি করা।
শুক্রবার মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিড প্রেসিডেন্সিয়াল রিট্রিটে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমরা ওদের উপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাব… একসময় ওরা বলবে, আমরা আর এটা সহ্য করতে পারছি না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার মনে হয়, আমরা শুধু জিততে চাই।’’
‘সবচেয়ে কঠোর বোমাবর্ষণ অভিযানের একটি’:
ট্রাম্প বলেন, ইরানের উপর তাঁর ‘‘আস্থা হারিয়ে যাচ্ছে’’। তাঁর অভিযোগ, ইরানের কর্তৃপক্ষ বারবার নিজেদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছে।
তিনি বলেন, ‘‘ওরা মিথ্যা বলে এবং ভুল তথ্য দেয়। তারা সবসময় আলোচনার কথা বলে, কিন্তু বারবার নিজেদের কথা ভেঙে ফেলে।’’
সিবিএস নিউজ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েল এমন একটি হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করছে, যা ‘‘সবচেয়ে কঠোর বোমাবর্ষণ অভিযানের একটি’’ হতে পারে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে, কয়েক সপ্তাহ পর ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে ইজরায়েলের এটি হবে প্রথম প্রত্যক্ষ সামরিক অংশগ্রহণ।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হামলার পরিকল্পনা এমনভাবে করা হচ্ছে যাতে সোমবার আর্থিক বাজার খোলার আগেই তা শেষ করা যায়। কারণ, এর প্রভাব মার্কিন ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইজরায়েলকে ইতিমধ্যেই বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তবে ট্রাম্প এখনও হামলার জন্য চূড়ান্ত ‘গো-অ্যাহেড’ বা অনুমোদন দেননি।
পাল্টা জবাব দিতে প্রস্তুত তেহরান:
ইরানের তাসনিম সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানা গিয়েছে, ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেছেন, আমেরিকা ও ইজরায়েল যদি ইরানের জ্বালানি পরিকাঠামোর উপর হামলা চালায়, তাহলে তার জবাব দিতে তেহরানের কাছে ‘‘একটি পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা’’ প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি সম্ভাব্য হামলা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলির তীব্র সমালোচনা করে সেগুলিকে ‘উন্মাদনা’ বলে বর্ণনা করেছেন।