নয়াদিল্লি: বদ্রীনাথ মন্দিরের সামগ্রী চুরির কথা স্বীকার করে নিলেন ধৃত সাধু। হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল তাঁকে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্য বৈদ্যুতিন তথ্য়প্রমাণ সহযোগে তাঁকে চেপে ধরেন তদন্তকারীরা। আর তাতেই চুরির কথা তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। (Badrinath Temple Donation Theft)
উত্তরাখণ্ডের চামোলী থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল প্রমোদ নওটিয়ালকে। তিনি বদ্রী-কেদার মন্দির কমিটির কর্মী ছিলেন। গোড়ায় অভিযোগ অস্বীকার করছিলেন তিনি। তবে জিজ্ঞাসাবাদের চতুর্থ দিনে অপরাধ স্বীকার করে নেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। যে সরকারি কোয়ার্টারে বাস প্রমোদের, সেখান থেকে রত্নখচিত একটি সোনার মুকুটও উদ্ধার হয়েছে, যা নারায়ণের মাথায় পরানো থাকত। আরও বেশ কিছু জিনিস উদ্ধার হয়েছে সেখান থেকে। (Badrinath Theft)
আরও পড়ুন: লক্ষ লক্ষ বই ধ্বংস করছে AI সংস্থাগুলি, প্রযুক্তির পিছনে দৌড়তে গিয়ে ক্ষতি হচ্ছে বিরাট
বদ্রীনাথ থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক মহাদেব উনিয়াল জানিয়েছেন, বেশ কয়েক দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় প্রমোদকে। একটা সময় পর অপরাধ স্বীকার করে নেন। চুরি করে অন্যায় করেছেন বলে স্বীকারও করে নেন প্রমোদ। তাঁর সরকারি কোয়ার্টারে হানা দিয়ে নগদ টাকা, সোনার গয়না, শালগ্রাম শিলার, একটি রুপোর মূর্তি, একটি রুপোর সাপ, নেপালের মুদ্রা এবং আরও মূল্যবান জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: সমাবর্তন বাতিল করল TISS, প্রধান অতিথি হয়ে আসার কথা ছিল CJI সূর্যকান্তের, বিক্ষোভের আশঙ্কা থেকেই কি?
পুলিশ জানিয়েছে, ডিজিটাল প্রমাণকে সামনে রেখেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় প্রমোদকে। আর তাতেই অপরাধ স্বীকার করেন তিনি। ঠিক কত টাকার জিনিসপত্র উদ্ধার হয়েছে প্রমোদের সরকারি কোয়ার্টার থেকে, তা এখনও খোলসা করেনি SIT. তবে এখনও পর্যন্ত বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর অধরা। প্রমোদ একা এই কাজ করেছেন, নাকি এর সঙ্গে আরও অনেকে যুক্ত ছিলেন স্পষ্ট নয়।
তবে এই চুরির নেপথ্যে বৃহত্তর ষড়যন্ত্র দেখছেন তদন্তকারীরা। এখনও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে SIT. আপাতত চামোলীর জেলে রয়েছেন প্রমোদ। আবারও তাঁকে হেফাজতে চেয়ে আবেদন জানানো হতে পারে।
বদ্রীনাথ মন্দিরে পুণ্যার্থীদের দানসামগ্রী চুরির ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। মন্দিরের দানসামগ্রী, মূল্যবান জিনিসপত্রের দেখভাল এবং নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী ভাবে দানসামগ্রী বাগিয়ে নিলেন প্রমোদ, তাও এখনও স্পষ্ট নয়।