এর আগে নয়ডা পুলিশে দায়ের হওয়া একটি জিরো এফআইআর (Zero FIR) ঘটনাস্থল দিল্লি হওয়ায় দিল্লি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তবে সেই অভিযোগের ভিত্তিতেও আর কোনও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে না বলে জানা গিয়েছে।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ডাকা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে এক কিশোরী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে আপত্তিকর ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর দেশজুড়ে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।
বিতর্কের পর ওই কিশোরী প্রকাশ্যে দু’বার ক্ষমা চায়। প্রথম ভিডিও বার্তায় সে নিজের মন্তব্যের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে এবং সকলের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে। পরবর্তীতে পুলিশে অভিযোগ দায়ের হওয়ার পর দ্বিতীয় একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসে। সেখানে নিজেকে ১৫ বছর বয়সি বলে পরিচয় দিয়ে সে জানায়, বিক্ষোভস্থলে উপস্থিত কয়েকজনের প্রভাবে সে ওই আপত্তিকর স্লোগান বলেছিল।
তার কথায়, “জুলাই মাসে বন্ধুদের সঙ্গে কনট প্লেসে গিয়েছিলাম। সেখানে কিছু মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে দেখি। তাঁদের প্ররোচনাতেই আমিও সেই কথা বলেছিলাম। এটা আমার জীবনের প্রথম এবং শেষ ভুল।”
সে আরও দাবি করে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি সে নিজে আপলোড করেনি। ঘটনার জন্য সে অত্যন্ত লজ্জিত এবং দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে আর কখনও এমন কাজ করবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দেয়। যদিও ওই ক্ষমাপ্রার্থনার ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
গাজিয়াবাদের এক বাসিন্দার অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৩০ জুলাই নয়ডার এক্সপ্রেসওয়ে থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২৩ জুলাই যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে ওই নাবালিকা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেছিলেন।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (BNS) ৩৫২ (শান্তিভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান), ৩৫৩(১) (জনসাধারণের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টিকারী বক্তব্য) এবং ৩৫৬(১) (মানহানি) ধারায় মামলা রুজু করে পরে তা দিল্লি পুলিশের কাছে পাঠানো হয়।
এই ঘটনার ভাইরাল ভিডিও ছড়িয়ে পড়া নিয়েও আলাদা তদন্ত শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ। স্পেশাল সেল থানায় এফআইআর দায়ের করে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম X-কে ভিডিওটি সরানোর নোটিস পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক তথ্য সংরক্ষণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিতর্কের পর গভীর রাতে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, শুধু তাঁকেই নয়, তাঁর প্রয়াত মাকেও অত্যন্ত কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করা হয়েছে, যা তাঁকে ব্যথিত করেছে। তবে তিনি দেশবাসীর কাছে আবেদন জানান, “ভুল পথে চালিত এই শিশুদের ক্ষমা করুন এবং সঠিক পথ দেখান।”