নির্বাচনী কৌশলবিদ থেকে রাজনীতিবিদ৷ একের পর এক রাজনৈতিক ‘রিস্ক’ নিয়েই চলেছেন৷ এঅবার কি তবে প্রথম পুরস্কারটা উঠতে চলেছে পিকে-র হাতে? শেষ পাওয়ার খবর অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোর বিহারের বাঁকীপুর আসনে প্রাথমিক পর্যায়ে এগিয়ে গেছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপির নীরজ কুমার। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১৬তম দফার গণনা শেষে প্রশান্ত কিশোর পেয়েছেন ৩১,৭৪২ ভোট এবং নীরজ কুমার তাঁর থেকে ৮,৯৬৬-এর বেশি ভোটে পিছিয়ে আছেন।
মধ্যপ্রদেশের দাতিয়ায় কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিং ৩৮,০০০-এর বেশি ভোটে এগিয়ে আছেন এবং বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি ৬,৫০০ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে আছেন। গুজরাটের মাঞ্জালপুরে শেষ দফার ভোট গণনা চলার সময় বিজেপির সত্যেন্দ্রভাই প্যাটেল ২৯,০০০-এর বেশি ভোটের আরামদায়ক ব্যবধানে এগিয়ে আছেন।
বাঁকিপুর বিজেপির শক্ত ঘাঁটি৷ এখান থেকে কোনও বিজেপি প্রার্থী কখনও হারেননি। এই আসনের সর্বশেষ অধিকারী ছিলেন বিজেপি প্রধান নিতিন নবীন৷ রাজ্যসভায় নির্বাচিত হওয়ার পরে তিনি আসনটি ছেড়ে দেন।
গত মাসে, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার একদিন পর বিজেপি প্রার্থী অভিষেক কুমার সিনহা ‘পারিবারিক কারণ’ দেখিয়ে সরে দাঁড়ান। এরপর বিজেপি যুব শাখার নেতা নীরজ কুমার সিনহাকে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে।
এদিকে, আরজেডি প্রধান লালুপুত্র তেজস্বী যাদব একটি অপ্রত্যাশিত ফলাফলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন, তাঁর দলের প্রার্থী রেখা গুপ্তা জাতি, ধর্ম ও সমাজ নির্বিশেষে ভোটারদের সমর্থন পেয়েছেন এবং তিনিই বিজয়ী হবেন।
মধ্যপ্রদেশে, ১৯৫১ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের বিধান অনুযায়ী গত ২ এপ্রিল কংগ্রেস বিধায়ক রাজেন্দ্র ভারতী অযোগ্য ঘোষিত হওয়ায় দাতিয়া বিধানসভা আসনটি শূন্য হয়।
এখন, বিজেপির আশুতোষ তিওয়ারি—যিনি প্রথমবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—কংগ্রেস প্রার্থী ঘনশ্যাম সিংয়ের বিরুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ে নেমেছেন।
তবে, এই আসনটি রাজ্যের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজেপি নেতা নরোত্তম মিশ্রার ব্যক্তিগত এলাকা হিসেবে পরিচিত৷ নরোত্তম মিশ্রা ২০০৮ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত টানা তিনবার এই আসনের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। কিন্তু ২০২৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মিশ্রা এই আসনে হেরে যান। এবার প্রার্থী পরিবর্তনের কারণে মিশ্রার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়েছেন এবং তাঁরা রাজ্যজুড়ে ধারাবাহিক বিক্ষোভ প্রদর্শনও করেছিলেন।
কুঁয়ার ঘনশ্যাম সিং দুইবারের প্রাক্তন বিধায়ক এবং পূর্বতন রাজপরিবারের একজন সদস্য, যিনি ১৯৯৩ ও ২০০৩ সালে এই আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন। তিনি পুরনো আনুগত্য, ব্যক্তিগত সদিচ্ছা এবং বিজেপি কর্মীদের একাংশের অসন্তোষের ওপর নির্ভর করছেন।
টানা তিনবার বিধায়ক হিসেবে থাকা বিজেপির যোগেশভাই নরন্দাস প্যাটেলের মৃত্যুর পর মঞ্জলপুর আসনটি শূন্য হয়।
এখানকার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে বিজেপির প্রাক্তন ভাদোদারা পৌরসভা কাউন্সিলর সতীশ সত্যেন্দ্রভাই পটেল এবং প্রাক্তন মন্ত্রী ও গুজরাট কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভিখাভাই রাবারির মধ্যে।
২০২২ সালে শাসক দল বিজেপি রাজ্য নির্বাচনে ১৮২টি আসনের মধ্যে ১৫৬টি আসনে জয়লাভ করে এক রেকর্ড সৃষ্টিকারী বিজয় অর্জন করেছিল।
যোগেশ প্যাটেল মাঞ্জালপুরে স্থানান্তরিত হওয়ার আগে ১৯৯০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে পাঁচবার ভাদোদরার রাওপুরা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। সীমানা পুনর্নির্ধারণের পর এই আসনটি তৈরি হয় এবং তিনি ২০১২, ২০১৭ ও ২০২২ সালে জয়লাভ করে ৩৬ বছরে বিধানসভায় টানা আটটি বিজয় সম্পন্ন করেন।