কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষক দাবি করছেন, দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতৃত্বে ছাত্র আন্দোলনের প্রভাবেই বাঁকীপুর উপনির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পেলেন প্রশান্ত কিশোর!
তাঁদের মতে, সিজেপি নেতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে দেশজুড়ে গড়ে ওঠা ছাত্র আন্দোলন ভোটারদের মানসিকতায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের ভোট বাক্সে৷
বাঁকীপুর একটি শহুরে ভোটার অধ্যুষিত কেন্দ্র৷ যেখানকার মানুষের কাছে জাতপাত ভিত্তিক রাজনীতির চেয়ে বাস্তব সমস্যায় গুরুত্ব পায় বেশি৷ গত ৩০ জুলাই বাঁকীপুর বিধানসভায় উপনির্বাচন হয়৷
যন্তর-মন্তরের আন্দোলন কীভাবে প্রভাব ফেলল বাঁকীপুরে?
বাঁকীপুর আসনটি প্রায় ৩০ বছর ধরে রেখেছিল বিজেপি। প্রথমে প্রবীণ বিজেপি নেতা নবীন কিশোর এবং তারপরে তাঁর ছেলে নিতিন নবীন৷ যিনি বর্তমানে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, NEET-UG প্রশ্নফাঁস বিতর্ক এবং তার জেরে যন্তর-মন্তরে সিজেপির ৩৭ দিনের আন্দোলন বিজেপির অজেয় ভাবমূর্তিতে প্রভাব ফেলে। তারই প্রভাব দেখা গিয়েছে জন সুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোরের ভোটবাক্সে, যেখানে ১১ হাজারেরও বেশি লিড গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।
পটনার অন্যতম শিক্ষাকেন্দ্র বাঁকীপুর৷ এখানে বহু বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও কোচিং সেন্টার রয়েছে। সিজেপির নেতৃত্বে হওয়া আন্দোলন ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। পরীক্ষায় অনিয়ম, স্বচ্ছতার অভাব এবং প্রশ্নফাঁস নিয়ে ক্ষোভ ভোটবাক্সে প্রতিফলিত হয় বলে মনে করা হচ্ছে।
নির্বাচনের আগে বিহার পুলিশ আন্দোলনের সমর্থনে বিক্ষোভকারী ছাত্রদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয় এবং রাজ্যজুড়ে প্রায় ৭০০ জন যুবককে আটক করে। পরে নতুন করে আন্দোলনের হুমকির মুখে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দফতর এফআইআর প্রত্যাহার করলেও পুলিশের এই পদক্ষেপ ছাত্রসমাজ ও তাদের পরিবারগুলোর মধ্যে ক্ষোভের জন্ম দেয়। সেই ক্ষোভ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির দিকে ভোট সরিয়ে দেয় বলে মত পর্যবেক্ষকদের।
সিজেপি-র আন্দোলনের ফলে তৈরি হওয়া সরকারবিরোধী মনোভাব ঐতিহ্যগত জাতভিত্তিক ভোটব্যাঙ্কেও প্রভাব ফেলে। শহুরে পটনায় বিজেপির অন্যতম ভরসা ভূমিহার ও ব্রাহ্মণ ভোটারদের একাংশও জন সুরাজের দিকে ঝুঁকে পড়েন বলে দাবি করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও জনমনে হতাশার কারণে ভোটদানের হার নেমে আসে মাত্র ৩৪.৩০ শতাংশে, যা আগের বিধানসভা নির্বাচনের ৪১.৪৫ শতাংশের তুলনায় অনেক কম। এতে বিজেপির ঐতিহ্যগত সাংগঠনিক শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, অন্যদিকে প্রশান্ত কিশোরের নাগরিক সমস্যা ভিত্তিক প্রচারাভিযান লাভবান হয় বলে বিশ্লেষকদের মত।
সিজেপির আন্দোলন নির্বাচনী আলোচনাকে মূলত সুশাসন, যুব কর্মসংস্থান এবং জবাবদিহিতার প্রশ্নে কেন্দ্রীভূত করে। এর ফলে রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি)-র মতো প্রচলিত বিরোধী শক্তি কার্যত পিছিয়ে পড়ে। আরজেডি প্রার্থী রেখা গুপ্তা তৃতীয় স্থানে শেষ করেন। পরিবর্তন চাওয়া ভোটারদের বড় অংশ জন সুরাজকেই প্রতিবাদের প্রধান রাজনৈতিক মাধ্যম হিসেবে বেছে নেন বলে মনে করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, উপরের বিশ্লেষণগুলি বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতামতের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। এগুলি প্রতিষ্ঠিত বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত নয়; নির্বাচনী ফলাফলের পেছনে একাধিক সামাজিক, রাজনৈতিক ও স্থানীয় কারণও কাজ করে থাকতে পারে।