Last Updated:
ইউরোপে রেকর্ডভাঙা তাপপ্রবাহ ও তীব্র খরার কারণে দানিউব-সহ একাধিক নদীর জলস্তর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার বছর আগের ম্যামথের দেহাবশেষ, ১৯৩৭ সালে ডুবে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি নাৎসি যুদ্ধজাহাজ এত বছর পর উদ্ধার হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই ঘটনাগুলি জলবায়ু পরিবর্তনের এক অত্যন্ত উদ্বেগজনক সঙ্কেত।
বুদাপেস্ট: ইউরোপজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহ শুধু তাপমাত্রার রেকর্ডই ভাঙেনি, বরং মাটির নীচে চাপা পড়ে থাকা ইতিহাসের স্তরও উন্মোচন করেছে। রেকর্ড খরার কারণে দানিউব (Danube)-সহ একাধিক নদীর জলস্তর এতটাই নেমে গিয়েছে যে, হাজার হাজার বছর ধরে জলের নীচে চাপা পড়ে থাকা নিদর্শনগুলি আবার দেখা যেতে শুরু করেছে। কোথাও মিলেছে প্রাগৈতিহাসিক ম্যামথের হাড়, কোথাও আবার ১৯৩৭ সালে ডুবে যাওয়া একটি কার্গো জাহাজ এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার হিটলারের নৌযান জলের উপর ভেসে উঠতে শুরু করেছে। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার হয়েছে বুলগেরিয়ায়। সেখানে দানিউব নদীর জল কমে যাওয়ার পর নদীর তলদেশ থেকে একটি বিশাল আকৃতির প্রাণীর দেহাবশেষ উদ্ধার হয়েছে। স্থানীয় জাদুঘরের কর্তৃপক্ষের মতে, উদ্ধার হওয়া অংশগুলির মধ্যে রয়েছে একটি নীচের চোয়াল, দুটি দাঁত এবং একটি পাঁজরের হাড়। এখন বিজ্ঞানীরা পরীক্ষা করে দেখবেন, এগুলি সত্যিই হাজার হাজার বছর আগে পৃথিবীতে বিচরণকারী ম্যামথের দেহাবশেষ কি না।
১৯৩৭ সালের ডুবে যাওয়া জাহাজকে আবার খুঁজে পাওয়া গেল:
দানিউব নদী ক্রোয়েশিয়ার মধ্য দিয়েও প্রবাহিত হয়েছে। সেখানে নদীর জলস্তর কমে যাওয়ার পর ‘ফুল্টন’ (Fulton) নামে একটি কার্গো জাহাজ উদ্ধার হয়েছে। ১৯৩৭ সালে কয়লা বহন করার সময় জাহাজটি নদীতে ডুবে গিয়েছিল। প্রায় নয় দশক পর তার কাঠামো আবার নদীর উপরিভাগে দেখা যাচ্ছে। অন্যদিকে, সার্বিয়াতেও দানিউব নদীর জল কমে যাওয়ায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার একটি নাৎসি যুদ্ধজাহাজ আবারও দৃশ্যমান হয়েছে। এটি যুদ্ধের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে ডুবিয়ে দেওয়া একাধিক জার্মান যুদ্ধজাহাজের মধ্যে একটি বলে মনে করা হচ্ছে।

দানিউব নদীতে রেকর্ড জলস্তর পতন:
দানিউব ইউরোপের দ্বিতীয় দীর্ঘতম নদী এবং এটি ১০টি দেশের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। এ বছর নদীটির জলস্তর বহু স্থানে রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে। হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে সম্প্রতি জলস্তর মাত্র ৯ ইঞ্চি পরিমাপ করা হয়েছে। এর আগে ২০১৩ সালে সর্বনিম্ন জলস্তর ছিল ১৩ ইঞ্চি। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনেও স্বস্তির বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।

Photo: Reuters
বিদ্যুৎ সঙ্কটের আশঙ্কা:
জলের ঘাটতির প্রভাব এবার জ্বালানি ক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে। হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিটার ম্যাগইয়ার বলেছেন, ডানিউব নদীর জলস্তর ক্রমাগত কমতে থাকায় পাক্স (Paks) পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, যা দেশের মোট বিদ্যুতের প্রায় অর্ধেক উৎপাদন করে, ইতিহাসে প্রথমবার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দিতে হতে পারে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের রিঅ্যাক্টর ঠান্ডা রাখতে দানিউব নদীর জল ব্যবহার করা হয়।
জাহাজ চলাচল, পর্যটন ও বাণিজ্যে বড় প্রভাব:
নদীতে জলের স্তর কমে যাওয়ায় মালবাহী জাহাজগুলিকে কম পণ্য বহন করতে হচ্ছে, যাতে তারা নদীর তলদেশে আটকে না যায়। এর ফলে পণ্য পরিবহন আরও ব্যয়বহুল ও ধীর গতির হয়ে পড়েছে। বুলগেরিয়ায় একটি রিভার ক্রুজ বালুচরে আটকে পড়েছে, আর একাধিক পর্যটন পরিষেবা বাতিল বা পরিবর্তন করতে হয়েছে। শুধু দানিউব নয়, সুইজারল্যান্ড ও ফ্রান্স সীমান্তে অবস্থিত লেক ব্রেনেটস (Lake Brenets)-ও প্রায় সম্পূর্ণ শুকিয়ে গিয়েছে। সেখানে এখন নৌকাগুলিকে শুকনো জমির উপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।
Kolkata,West Bengal
